বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত: শেষ মুহূর্তেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নতুন চমক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

​বিশেষ প্রতিনিধি:
রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের প্রার্থী কে হচ্ছেন—তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তবে দলীয়ভাবে এখনই আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দিচ্ছে না বিএনপি। দলের একাধিক নীতি-নির্ধারণী সূত্রের মতে, বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-কেই সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।
​গতকাল বুধবার বিএনপির উচ্চপর্যায়ের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের পূর্ণ ক্ষমতা দলের স্থায়ী কমিটি চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে। সে কারণে আগেভাগে কোনো প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হবে, আর তখনই প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসবে।
​তারেক রহমানের সবুজ সংকেত ও ফখরুলের স্বাক্ষর
​কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত অনুমোদন করেছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে প্রার্থী যে সম্মতিপত্র দেন, তাতে গত শনিবারই স্বাক্ষর করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
​এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ইতোমধ্যেই বিএনপির পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। একই ব্যক্তির নামে একাধিক আবেদন জমা দেওয়ার আইনি সুযোগ থাকায় কৌশলগত কারণেই বিএনপি দুটি ফর্ম তুলেছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই প্রার্থিতা চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।
​সংসদ ভবনে ভোটের প্রস্তুতি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী
​উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকে রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
​অন্যদিকে, জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য এই পদে বিএনপির সাবেক নেতা ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ-কে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
​আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জাতীয় সংসদের বিশেষ বৈঠক আহ্বান করেছেন। সিইসি নিজেই এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
​রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কারিগরি ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ইসি ও সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
​সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও সরাসরি সম্প্রচার
​প্রস্তুতি সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কঠোরভাবে বহাল থাকবে। ফলে কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে।
​তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ভোটদানসহ ভোট গণনা ও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।
​সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই সনদ অনুযায়ী অনুচ্ছেদ ৭০ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ত। তবে আমরা এই নির্বাচনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চাই না বলেই বিরোধী ঐক্যের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।”

Share This Article
Leave a Comment