নিজস্ব প্রতিবেদক :তিস্তা নদী রক্ষা ও অববাহিকায় বসবাসরত মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে আগামী বছরের নভেম্বরের মধ্যে তিস্তা নদী প্রকল্পের কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লালমনিরহাটে ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে সদর উপজেলা রক্ষা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে তিস্তা নদী রক্ষার দাবিতে নদীতীরে মানুষের সমাবেশ এবং নির্বাচনি ইশতেহারে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় সরকার এ উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। আগামী বছরের নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েক দফায় নদী এলাকা পরিদর্শন, সভা আয়োজন এবং কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।
তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের পানিসংকট, বন্যা ও নদীভাঙনজনিত দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের ছোট-বড় নদ-নদী ও জলাশয়কেন্দ্রিক সমস্যার সমাধানেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় ধরলা নদীর দুই তীরে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় বিন্নাঘাস রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, নদীর তীর সংরক্ষণ ও সড়কের ভাঙন রোধে বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক কে এম মমিনুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

