ডেস্ক নিউজ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ফারুক শেখ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি পুলিশের
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাত্র ৩ হাজার ৪০০ টাকার বিনিময়ে বড় ভাই ফারুক শেখকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছোট ভাই বারেক শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বারেকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখ।
পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ এবং সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বড় ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বারেক। হত্যার জন্য আলমগীর ও রুবেলকে ভাড়া করা হয়। হত্যার আগে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং হত্যার পর ১ হাজার ৩০০ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক।
পুলিশ জানায়, নিহত ফারুক শেখের বয়স ৪৬ বছর। গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে গোয়ালন্দঘাট থানার জামতলা এলাকায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় ফারুকের বাবা মো. খালেক শেখ বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পরপরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফারুকের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ আগস্ট দুপুরে আলমগীর ও রুবেলের হাতে দুটি ধারালো দা তুলে দেন বারেক। পরে তাঁরা ফারুকের বাড়িতে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।
এরপর গোয়ালন্দঘাট থানার দৌলতদিয়া এলাকার নিজ নিজ বাড়ি থেকে আলমগীর ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা দা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং একটি মাস্কসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক বলেন, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

