মেসির পর এমএলএসে তারকার মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
5 Min Read
মেসির পর এমএলএসে নাম লিখিয়েছেন আরও তারকা খেলোয়াড় | ছবি : সংগৃহীত

খেলা ডেস্ক

লিওনেল মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দেওয়ার পর বদলে যেতে শুরু করেছিল লিগটির পরিচিতি। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার আগমনে যেমন দর্শক ও গণমাধ্যমের আগ্রহ বেড়েছে, তেমনি ইউরোপের নামী ফুটবলারদের কাছেও এমএলএস হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় এক গন্তব্য।

এবারের গ্রীষ্মের দলবদলে সেই প্রবণতাই যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলবদলের দ্বিতীয় পর্বের জানালা বন্ধ হওয়ার এখনও প্রায় তিন সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যেই এমএলএসে যোগ দিয়েছেন আঁতোয়ান গ্রিজমান, রবার্ট লেভানডফস্কি, আলেক্সিস সানচেজ ও কাসেমিরোর মতো তারকারা। বিশ্বকাপজয়ী থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী—তারকাদের এই তালিকা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে এবারের দলবদল কতটা ব্যতিক্রমী।

গ্রিজমানের অভিষেকেই গোল

১৩ জুলাই অরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড আঁতোয়ান গ্রিজমান। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ব্যালন ডি’অরের সেরা তিনে থাকা এই তারকা নতুন ক্লাবের হয়ে অভিষেকেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

সান হোসে আর্থকোয়েকসের বিপক্ষে অরল্যান্ডো সিটির ৪-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন গ্রিজমান। গোলটি ছিল ক্লাব ফুটবলে তাঁর ক্যারিয়ারের ৩০০তম।

গ্রিজমানের আগেই এমএলএসে নাম লিখিয়েছিলেন রবার্ট লেভানডফস্কি। জুনের শেষ দিকে বার্সেলোনা ছেড়ে শিকাগো ফায়ারে যোগ দেন ৩৭ বছর বয়সী পোলিশ স্ট্রাইকার।

শিকাগোর হয়ে নিজের তৃতীয় ম্যাচেই শার্লটের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেন লেভানডফস্কি। ইউরোপে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিয়মিতই মৌসুমে ২০ থেকে ৩০ বা তার বেশি গোল করেছেন তিনি।

২০১৯-২০ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের ছয়টি শিরোপা জয়ের ঐতিহাসিক অভিযানে লেভানডফস্কির অবদান ছিল ৫৫ গোল। করোনা মহামারির কারণে সে বছর ব্যালন ডি’অর না হলে পুরস্কারটির অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিলেন এই স্ট্রাইকার। বার্সেলোনায় নিজের শেষের আগের মৌসুমেও তাঁর পা থেকে এসেছে ৪২ গোল। গত মৌসুম শেষ করেছেন ১৯ গোল নিয়ে।

সানচেজ ও কাসেমিরোও নতুন ঠিকানায়

গোল করা কিংবা গোলের সুযোগ তৈরি—দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর আলেক্সিস সানচেজ। বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইন্টার মিলানের মতো ইউরোপের বড় ক্লাবে খেলা চিলির এই তারকা দুই বছরের চুক্তিতে যোগ দিয়েছেন মন্ট্রিয়লে।

তবে এবারের দলবদলে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি কাসেমিরো। রিয়াল মাদ্রিদে নয় বছর কাটিয়ে ক্লাবটির হয়ে প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছেন ব্রাজিলের এই মিডফিল্ডার। এবার তাঁর নতুন ঠিকানা মেসির ইন্টার মায়ামি।

সাম্প্রতিক বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন কাসেমিরো। জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে একটি গোলও করেছিলেন তিনি। ২০১১ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ৯১ ম্যাচ।

ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তি আগামী মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। সময়টা খুব দীর্ঘ না হলেও মায়ামির মাঝমাঠে কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই স্বাভাবিক।

মেসির পুরোনো সতীর্থরাও যুক্তরাষ্ট্রে

শুধু গ্রিজমান, লেভানডফস্কি, সানচেজ ও কাসেমিরো নন, এবারের দলবদলে আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

মেসির বার্সেলোনা-সতীর্থ সার্জি রবার্তো যোগ দিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে। অন্যদিকে কলম্বাস ক্রুতে নাম লিখিয়েছেন সাবেক ভিয়ারিয়াল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার এরিক বেইলি।

ফলে এবারের দলবদল শেষ হওয়ার আগেই এমএলএসের বিভিন্ন দলে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা একঝাঁক ফুটবলারকে দেখা যাচ্ছে।

এমএলএসের ইতিহাসে সেরা দলবদল?

প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটাই কি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে তারকাবহুল দলবদল?

গত বছরও যুক্তরাষ্ট্রের লিগে যোগ দিয়েছিলেন দুই বড় তারকা। বায়ার্ন মিউনিখের জার্মান কিংবদন্তি টমাস মুলার পাড়ি জমান ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসে। আর রেকর্ড ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের বিনিময়ে টটেনহাম ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে যোগ দেন দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউং-মিন।

চলতি বছরের শুরুতে মিনেসোটা ইউনাইটেডে যোগ দেন কলম্বিয়ার তারকা হামেস রদ্রিগেজও।

অবশ্য ইউরোপের বড় তারকাদের এমএলএসে আসার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৫ সালের দলবদলে আন্দ্রে পিরলো, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড, কাকা ও দিদিয়ের দ্রগবার মতো তারকারা যুক্তরাষ্ট্রের লিগে এসেছিলেন।

তবে বৈশ্বিক ফুটবলে এমএলএসকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল ২০২৩ সালে লিওনেল মেসির আগমন।

মেসির সঙ্গে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন তাঁর বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ সার্জিও বুসকেতস ও জর্দি আলবা। তাঁদের হাত ধরে মায়ামি জেতে ক্লাব ইতিহাসের প্রথম শিরোপা। এরপরও সাফল্যের ধারায় যোগ হয়েছে আরও অর্জন।

শেষ মুহূর্তে আরও চমক?

এবারের দলবদলের জানালা বন্ধ হবে ২ সেপ্টেম্বর। তার আগে এমএলএসের কোনো ক্লাবে ইউরোপের আরেক বড় তারকা যোগ দেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

গ্রিজমান, লেভানডফস্কি, সানচেজ ও কাসেমিরোর আগমন এরই মধ্যে এবারের দলবদলকে দিয়েছে আলাদা গুরুত্ব। মেসির আগমনের পর যে লিগটি বিশ্ব ফুটবলের নজরে এসেছে, এবারের তারকার মিছিল সেই আকর্ষণকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—দলবদলের পর্দা নামার আগে এ তালিকায় আর কোন বড় নামটি যুক্ত হয়?

Share This Article
Leave a Comment