ডেস্ক নিউজ: বর্ষা এলেই বাড়তে থাকে জ্বরের প্রকোপ। এর মধ্যে ভাইরাল জ্বর ও ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ে। দুটি রোগের কিছু উপসর্গ প্রায় একই হওয়ায় অনেক সময় পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কিছু লক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়।
ভাইরাল জ্বর কী?
ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যে জ্বর হয়, তাকে সাধারণভাবে ভাইরাল জ্বর বলা হয়। বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণে এ ধরনের জ্বর হতে পারে। সাধারণত জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া বা কাশির মতো উপসর্গ দেখা যায়।
ভাইরাল জ্বরের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
– হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার জ্বর
– শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা
– গলা ব্যথা
– নাক দিয়ে পানি পড়া
– কাশি
– বমি বমি ভাব বা বমি
ডেঙ্গু কী?
ডেঙ্গু একটি নির্দিষ্ট ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের তুলনায় ডেঙ্গুতে কিছু উপসর্গ বেশি তীব্র হতে পারে। সংক্রমিত মশার কামড়ের কয়েক দিন পর সাধারণত ডেঙ্গুর লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে—
– হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর
– তীব্র মাথাব্যথা
– চোখের পেছনে ব্যথা
– পেশি ও জোড়ায় তীব্র ব্যথা
– পেটে ব্যথা
– বমি বমি ভাব
– ত্বকে ফুসকুড়ি
– নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া
– রক্তচাপ কমে যাওয়া
চিকিৎসায় কী পার্থক্য?
ভাইরাল জ্বরে সাধারণত পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের ওষুধ দেওয়া হয়। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ না থাকলে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।
অন্যদিকে, ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বিশ্রাম এবং রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়। বিশেষ করে রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট বা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে নিজে থেকে আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এসব ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জ্বরের ওষুধ নেওয়ার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
তাই জ্বর হলেই সেটিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ধরে না নিয়ে উপসর্গের দিকে নজর দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

