কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় নিখোঁজ হওয়া ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকি (৩৫)–এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজের প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর রোববার সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পদ্মা নদীতে মরদেহটি ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয় নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেটি উদ্ধার করেন।
এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে প্রায় ১৩০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাল্কহেড ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পৌঁছালে প্রবল স্রোতের ধাক্কায় ব্রিজের চার নম্বর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় রাকিবুজ্জামান রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান। পরে লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ ছিলেন রকি।
নৌকা ভ্রমণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলা গাড়িঘাট থেকে ১৩০ জন যাত্রী নিয়ে তাঁরা ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ মাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। মাজারে ভ্রমণ শেষে শুক্রবার রাতে তাঁরা বাল্কহেডে করে ফেরার পথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছান।
সেখানে পদ্মার তীব্র স্রোতে বাল্কহেডের পেছনের অংশ ব্রিজের চার নম্বর পিলারে আঘাত করলে তিনজন নদীতে পড়ে যান। তাঁদের মধ্যে দুজনকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকি নিখোঁজ হন।
উদ্ধার অভিযানে খুলনা থেকে পাঁচ সদস্যের ডুবুরি দল অংশ নেয়। দলের প্রধান সাইদুল ইসলাম বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের আশপাশে নদীর স্রোত খুবই প্রবল ছিল। এ কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে ডুবুরি দলের সদস্যদেরও বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
লক্ষীকুণ্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শহিদুল ইসলাম ও ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, রোববার সকাল ১০টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পদ্মা নদীতে রাকিবুজ্জামান রকির মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাতও রকির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

