দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রাণহানির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। এডিস মশাবাহিত এই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭২৩ জন। ফলে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন এই রোগী ও মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজধানীতেই আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি
অঞ্চলভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে অর্ধেকের কাছাকাছি ঢাকা বিভাগের। বিভাগটিতে মোট ৩২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১০১ জন, খুলনায় ৯৮ জন, চট্টগ্রামে ৮৩ জন, রাজশাহীতে ৬৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মোট সংক্রমণ ও সুস্থতা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫৫০ জনে। বিপরীতে, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮৯৪ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এর মধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টাতেই সুস্থ হয়েছেন ৭১২ জন।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মৃত্যুর পরিসংখ্যান
মাসভিত্তিক হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ডেঙ্গুর তেজ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে, মে মাসে ১ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। তবে জুলাই মাসে সংক্রমণ চূড়ান্ত রূপ নিলে এক মাসেই ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১২ দিনেই মারা গেছেন ৯ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান, বর্ষার এই সময়ে এডিস মশার বংশবিস্তার বেশি হয়। তাই ঘরের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমা পানি দূর করা এবং জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলেই অবহেলা না করে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

