ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপনে সমবেত হওয়া, সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া এবং রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলাটি করা হয়। এতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর (সংশোধনী ২০১৩) ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রয়েল বড়ুয়া, নিউমুন, এস এম সালমান, মাহাবুব, মো. ওসমান গনি, সিএম সাব্বির হাসান হৃদয়, আরাফাত হোসেন ওরফে রাকিব, আবিদ হোসেন হৃদয়, বিধান রায়, মো. শাওন সাব্বির, স্বাধন, রাজু ওরফে ছোট রায়, বড় রাজু, মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, মো. খায়রুল ইসলাম ও মো. মনোয়ার হোসেন। এজাহারে তাঁদের কয়েকজনকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতা ও সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলেমান গনি। এজাহারে বলা হয়, গত ৩১ আগস্ট ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, সদর উপজেলার ১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকায় গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ২৫ থেকে ৩০ জন সমবেত হয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে থাকা কয়েকজনের নাম ও পরিচয় জানতে পারে। পরে তাঁদেরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও জানমালের ক্ষতির উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

