দুই বছরের সম্পর্কে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কথা জানালেন অনুপমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
4 Min Read
ছবি: সংগৃহীত৷ অনুপমা পরমেশ্বরন।

বিনোদন ডেস্ক

দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন তাঁর জীবনের কঠিন এক অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। জানিয়েছেন, একটি সম্পর্কে প্রায় দুই বছর ধরে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।

পরে ‘আই অ্যাম উইথ ধন্য ভার্মা’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন অনুপমা। জানান, ওই পোস্টটি হঠাৎ আবেগের বশে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং দীর্ঘদিন নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবা, তা মেনে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার পরই তিনি প্রকাশ্যে বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।

তবে কার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন, তাঁর নাম প্রকাশ করেননি অনুপমা।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, ওই সম্পর্কে থাকতে থাকতে তিনি ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় ও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছিলেন। একটা সময় তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি আর নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে পারছেন না।

অনুপমা বলেন, তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টের পেছনে ছিল প্রায় দুই বছরের কষ্ট এবং শারীরিক-মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার অভিজ্ঞতা।

‘ধীরে ধীরে নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলাম’

অনুপমা তাঁর অভিজ্ঞতাকে ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’ বা আত্মমুগ্ধতাজনিত মানসিক নির্যাতন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ধরনের নির্যাতন নিয়ে অভিনেত্রী ম্যাডোনা সেবাস্তিয়ানের একটি ইনস্টাগ্রাম রিল দেখার কথাও জানান তিনি।

রিলটি দেখার পর তাঁর শরীর কাঁপতে শুরু করেছিল বলে জানান অনুপমা। কারণ, সেখানে যে ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছিল, তার সঙ্গে নিজের জীবনের অনেক কিছুই মিলে যাচ্ছিল।

তাঁর মতে, নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ নিয়ে মানুষের উপলব্ধি এক রকম নয়। কেউ নিজে এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান, কেউ কাছের মানুষকে এমন পরিস্থিতিতে দেখেন। আবার অনেকে শুধু শব্দটির সঙ্গে পরিচিত, কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ বা প্রভাব সম্পর্কে জানেন না।

অনুপমা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনেকে নারী-পুরুষের দ্বন্দ্বের দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্য করেন। কিন্তু তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেই মানুষগুলো, যারা নিজেরাই এমন সম্পর্কে রয়েছেন অথচ এখনো বুঝতে পারেননি যে তাঁরা নির্যাতনের শিকার।

অভিনেত্রীর ভাষায়, এই মানুষগুলোর কাছেই তাঁর সবচেয়ে বেশি কিছু বলার আছে। কারণ, নির্যাতনের মধ্যে থেকেও সেটিকে শনাক্ত করতে না পারা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

ওজন কমেছিল, বদলে যাচ্ছিলেন নিজেকে

সেই সম্পর্কের সময় নিজের ওপর এর গভীর প্রভাব পড়েছিল বলেও জানান অনুপমা। উল্লেখযোগ্যভাবে ওজন কমে গিয়েছিল তাঁর।

তাঁর কথায়, তখন নিজেকে একজন বিকশিত মানুষ হিসেবে মনে হতো না। বরং মনে হতো, তিনি যেন প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছেন।

শেষ পর্যন্ত সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নিজের দিকে ফিরে তাকানোর সিদ্ধান্ত নেন অভিনেত্রী। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে, সেই পথটি সহজ ছিল না; দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে বোঝা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।

ধ্রুব বিক্রমকে ঘিরে নতুন আলোচনা

অনুপমা তাঁর সাবেক সঙ্গীর পরিচয় প্রকাশ না করলেও তাঁর বক্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে অভিনেতা ধ্রুব বিক্রমের নাম। ‘বাইসন কালামাডান’ ছবিতে কাজের সময় থেকেই দুজনের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছিল। তবে তাঁদের কেউই প্রকাশ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি।

এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথিত ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে দুজনকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। ছবিটির সত্যতা অবশ্য নিশ্চিত হয়নি। তাঁদের একটি যৌথ স্পটিফাই প্লেলিস্ট নিয়েও ভক্তদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দুজনের আচরণও গুঞ্জন বাড়িয়েছিল। এক পুরস্কার অনুষ্ঠানে ধ্রুব অনুপমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালে তাঁকে বেশ লাজুক দেখাচ্ছিল। সে সময় অনুপমা ধ্রুবকে তাঁর ‘২ এএম কল’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন—অর্থাৎ গভীর রাতেও যাঁকে ফোন করা যায়, এমন একজন ঘনিষ্ঠ মানুষ।

পরে মুম্বাইয়ের আরেক অনুষ্ঠানে ধ্রুব অনুপমার সঙ্গে একটি ঘনিষ্ঠ সেলফি প্রকাশ করেন। অনুপমাও সেটি হৃদয়ের ইমোজি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন।

তবে পরবর্তী সময়ে দুজনকে একসঙ্গে প্রকাশ্যে কম দেখা গেছে। একে অপরকে নিয়েও তাঁদের প্রকাশ্য মন্তব্য কমে যায়। ফলে তাঁদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

তবে অনুপমা তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে কোথাও ধ্রুব বিক্রমের নাম উল্লেখ করেননি। তাই তাঁর বলা দুই বছরের সম্পর্কটি ধ্রুবকে ঘিরেই ছিল—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

Share This Article
Leave a Comment