রাকসুর তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি : সংগৃহীত

ডেস্ক নিউজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে প্রায় সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাতবিহীন অর্থ উত্তোলন, বিল-ভাউচার না দেওয়া এবং অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা ও অনিয়ম প্রমাণিত হলে অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি। শাখা ছাত্রদলের সভাপতির স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে রাকসু তহবিলের আয়-ব্যয় ও অর্থ ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, রাকসুর তহবিল থেকে ৪২টি কর্মসূচির জন্য মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উত্তোলন করা ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। সংগঠনটির অভিযোগ, সংশ্লিষ্টরা যথাযথ আর্থিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হয়নি।

ছাত্রদল বলছে, রাকসু কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান। ফলে রাকসু তহবিলের প্রতিটি টাকার ব্যয় স্বচ্ছভাবে নথিভুক্ত করা এবং নির্ধারিত খাত ও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ব্যয়ের প্রমাণ রাখা প্রয়োজন।

স্মারকলিপিতে রাকসু তহবিলের অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কখন ও কার অনুমোদনে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং কোন খাতে তা ব্যয় হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব, চেক উত্তোলনের নথি, বিল-ভাউচারসহ সংশ্লিষ্ট সব আর্থিক কাগজপত্রের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ অডিটের দাবি করা হয়েছে।

এ জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশের কথাও বলা হয়েছে। তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ, অপব্যবহার, দুর্নীতি বা আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। পাশাপাশি অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় বা আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার করে তা রাকসু তহবিলে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যতে রাকসু তহবিল ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক বিল-ভাউচার সংরক্ষণের ব্যবস্থাও চাওয়া হয়েছে।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কষ্টার্জিত সোয়া কোটি টাকা রাকসুর ভিপি, জিএসসহ সম্পাদকরা ব্যক্তিগত কাজে উত্তোলন করে বিনা ভাউচারে কর্মসূচিতে ব্যয় করেছেন।’ তাঁর দাবি, অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এর প্রতিবাদেই উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ছাত্রদল রাকসুর আর্থিক বিষয় নিয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এতে আর্থিক বিধি না মেনে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে বেশ কিছু অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উপাচার্য রাজশাহীতে ফিরলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জনগণের করের অর্থ ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share This Article
Leave a Comment