স্বাস্থ্য ডেস্ক
হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপনে সচেতনতা জরুরি। তবে শরীরের কিছু পরিবর্তন থেকেও হৃদ্যন্ত্র ও কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ দেখে হৃদ্রোগ নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা যায় না। হঠাৎ বা দীর্ঘদিন ধরে কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে, বিশেষ করে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
১. সিঁড়ি ভাঙলে অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হয় না
দ্রুত হাঁটা কিংবা কয়েক তলা সিঁড়ি ওঠার সময় অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট না হলে তা সাধারণত ভালো শারীরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস ও পেশি সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
অবশ্য কঠোর ব্যায়ামের পর শ্বাসকষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আগে যে কাজগুলো সহজে করতে পারতেন, সেগুলো করার পর এখন অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। শারীরিক অক্ষমতা, রক্তস্বল্পতা, ফুসফুসের সমস্যা কিংবা হৃদ্রোগ—বিভিন্ন কারণেই এমন হতে পারে।
২. ব্যায়ামের পর দ্রুত স্বাভাবিক হন
ব্যায়ামের সময় শরীরের অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় হৃদ্স্পন্দনও বেড়ে যায়। ব্যায়াম বন্ধ করার পর ধীরে ধীরে হৃদ্স্পন্দন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
কত দ্রুত হৃদ্স্পন্দন স্বাভাবিক হবে, তা বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, ব্যায়ামের মাত্রা ও কিছু ওষুধের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করতে পারে। ব্যায়ামের পর আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে অস্বস্তি বা দুর্বলতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৩. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ছাড়াই সক্রিয় থাকতে পারেন
সুস্থ হৃদ্যন্ত্র শরীরের বিভিন্ন পেশিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার, ব্যায়াম কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম অস্বাভাবিক ক্লান্তি ছাড়াই করতে পারা ইতিবাচক লক্ষণ হতে পারে।
তবে হঠাৎ করে আগের তুলনায় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া বা ব্যায়াম করার সক্ষমতা কমে যাওয়া অবহেলা করা ঠিক নয়। সব হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা থাকবেই এমন নয়। বিশেষ করে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারছেন
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখার অন্যতম কার্যকর উপায়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কিংবা হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় এমন অন্যান্য ব্যায়াম নিয়মিত করার অভ্যাস কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস উন্নত করতে সাহায্য করে।
সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম অথবা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়ামের লক্ষ্য রাখা হয়। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করাও উপকারী।
এর জন্য ক্রীড়াবিদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত দ্রুত হাঁটার মতো সহজ অভ্যাসও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার ভালো উপায়।
৫. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে
শুধু শরীরের অনুভূতি দিয়ে উচ্চ রক্তচাপ বোঝা যায় না। কারণ উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দেয় না। এ কারণেই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তচাপ দীর্ঘদিন বেশি থাকলে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর চাপ বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং বারবার বেশি রিডিং পাওয়া গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মনে রাখবেন: এসব লক্ষণ হৃদ্যন্ত্র ভালো থাকার সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিতে পারে, কিন্তু এগুলো দিয়ে হৃদ্রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অন্য কোনো নতুন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

