চার মাদ্রাসা শিক্ষকের অতিরিক্ত বেতন ফেরতের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
2 Min Read
ছবি : সংগৃহীত

ডেস্ক নিউজ

নির্ধারিত সময়ের আগেই উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা নিয়ে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে চার এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা প্রভাষকের বিরুদ্ধে। তাদের অতিরিক্ত উত্তোলন করা অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্ধারিত অর্থ ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি (পিডিআর) আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে অধিদপ্তর।

রোববার (৩০ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদারের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির আট বছর পূর্ণ হলে ৫০ শতাংশ কোটা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন। তবে এ পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মোট পদের সংখ্যা বাড়বে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, ৫০ শতাংশ কোটায় পদোন্নতি না পাওয়া প্রভাষকরা এমপিওভুক্তির ১০ বছর সন্তোষজনকভাবে চাকরি সম্পন্ন করলে বেতন স্কেলের গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৮ পাওয়ার যোগ্য হবেন। এরপর আরও ছয় বছরসহ মোট ১৬ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে তাদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মেমিস সেলের তথ্য পর্যালোচনায় চার প্রভাষকের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার আগেই উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তারা মেমিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন করে গ্রেড-৮ সুবিধা গ্রহণ করেন। এর ফলে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।

এ কারণে জুলাই মাসের এমপিও শিটে ওই চার প্রভাষকের বেতন কোড গ্রেড-৮ থেকে পরিবর্তন করে আগের গ্রেড-৯ পুনর্বহাল করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত উত্তোলন করা অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে বিষয়টি অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পিডিআর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ ফেরতের নির্দেশ পাওয়া চার শিক্ষক হলেন—চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়ীয়া বার আউলিয়া হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মো. ওসমান গনি, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শম্ভুপুর ডিএসএন আলিম মাদ্রাসার হাদিস বিভাগের প্রভাষক মো. আব্দুর রউফ, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদ্রাসার হাদিস বিভাগের প্রভাষক মো. ওবায়দুর রহমান এবং গাইবান্ধার পলাশপুরের মাদার বাজার এবিএস মাদ্রাসার হাদিস বিভাগের প্রভাষক শামিমা খাতুন।

Share This Article
Leave a Comment