হাসপাতালে স্ত্রী-নবজাতক, বাড়িতে মিলল যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
2 Min Read
ছবি:সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:তিন দিন আগে ছেলে সন্তানের বাবা হয়েছিলেন আবদুল হালিম (২৯)। স্ত্রী ও নবজাতক সন্তান তখনো হাসপাতালে। এর মধ্যেই সোমবার সকালে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা এবং চিকিৎসার খরচ নিয়ে আর্থিক সংকটে ছিলেন হালিম। এসব বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
আবদুল হালিম ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। তাঁর তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।

পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, তিন দিন আগে ছাগলনাইয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন হালিমের স্ত্রী। স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে রেখে রোববার রাতে বাড়িতে ফেরেন হালিম।
সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া পাননি। পরে তাঁর বাবা শয়নকক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে কক্ষে ঢুকে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় হালিমকে ঝুলতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের ভাই আবদুর রউফ বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা এবং চিকিৎসার খরচ নিয়ে তাঁর ভাই আর্থিক সংকটে ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তাঁর এমন মৃত্যু পরিবারের কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

ছাগলনাইয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তফা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হালিমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনতে না পারাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হালিম দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এসব কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment