ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারের কাছে ‘বন্দী’ হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও এলাকার উন্নয়নের জন্য এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় দেলাওয়ার হোসেন বলেন, অতীতে ভোটের গণনায় সঠিকতা ছিল না বলে তিনি মনে করেন। এবার ভোট গণনা সঠিকভাবে করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘কতদিন আর বঞ্চিত থাকবেন ভাই ও বোনেরা? কতদিন অধিকারবঞ্চিত থাকবেন, কতদিন গোলামি করবেন, কতদিন মুখ বন্ধ করে থাকবেন? এটা চলতে পারে না। স্বাধীন দেশের মানুষ মুখ বন্ধ রাখার জন্য কিংবা কারও গোলামি করার জন্য স্বাধীনতা অর্জন করেনি।’
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলা ও চলার অধিকার নিশ্চিত করতেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ একটি পরিবারের কাছে বন্দী হয়ে আছে দাবি করে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে জনগণকে বের করে আনতে তিনি কাজ করতে চান। এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতাও চান তিনি।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বক্তব্যের সমালোচনা করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, সাত মাসে ঠাকুরগাঁও উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে গেছে—এমন দাবি করা হলেও বাস্তবে কী উন্নয়ন হয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন আগের সরকার দিয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে ভিসি ও কিছু কর্মকর্তা নিয়োগ এবং ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ নিয়েও স্বজনপ্রীতির প্রশ্ন উঠেছে এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম হচ্ছে।
জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালকে দ্রুত ৬০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জামায়াতের এই প্রার্থী। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পৌরসভার উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দেলাওয়ার হোসেন। তিনি বলেন, পৌরসভায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ এসেছে বলে বলা হলেও সেই অর্থে কী কাজ হচ্ছে, তা জনগণ জানেন না। তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কোথাও রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। আবার কোনো কোনো সড়ক নির্মাণের কয়েক দিনের মধ্যেই পিচ উঠে যাচ্ছে। এসব কাজকে উন্নয়ন বলা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি সংসদ সদস্য হলে বরাদ্দ পাওয়া যাবে আর অন্য কেউ নির্বাচিত হলে বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আসনভিত্তিক উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজন সৎ, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত একজন জনপ্রতিনিধি।
নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
এ সময় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন, পৌর জামায়াতের আমির শামসুজ্জামান শাহ শামীমসহ দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

