হজরত সুলাইমান (আ.)-এর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে বায়তুল মাকদিস নির্মাণের পর আল্লাহর কাছে তাঁর তিনটি বিশেষ প্রার্থনার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।
হজরত আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.)-এর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, হজরত সুলাইমান (আ.) আল্লাহর কাছে তিনটি বিষয় চেয়েছিলেন। তাঁর প্রার্থনাগুলোর মধ্যে ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, বিশেষ রাজত্ব এবং বায়তুল মাকদিসে ইবাদত করতে আসা ব্যক্তির জন্য ক্ষমা লাভের সুযোগ।
১. ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা
হজরত সুলাইমান (আ.) আল্লাহর কাছে এমন ফয়সালার সামর্থ্য প্রার্থনা করেন, যা যথার্থ ও ন্যায়সংগত হবে। বিচারকার্যে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ একজন শাসকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই প্রার্থনা কবুল করেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
২. এমন রাজত্ব, যা আর কেউ পাবেন না
হজরত সুলাইমান (আ.)-এর দ্বিতীয় প্রার্থনা ছিল এক বিশেষ রাজত্ব লাভের জন্য, যা তাঁর পরে আর কাউকে দেওয়া হবে না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে অসাধারণ ক্ষমতা ও রাজত্ব দান করেন।
পবিত্র কোরআনের সুরা সাদে তাঁর এই প্রার্থনার উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পর তিনি এমন রাজত্ব চেয়েছিলেন, যা তাঁর পরে আর কারও জন্য হবে না।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, হজরত সুলাইমান (আ.) বলেছিলেন, ‘হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন, যা আমার পরে আর কারও জন্য প্রযোজ্য হবে না।’ (সুরা সাদ, আয়াত ৩৫)
৩. বায়তুল মাকদিসে ইবাদতকারীদের জন্য ক্ষমা
তৃতীয় প্রার্থনাটি ছিল বায়তুল মাকদিসে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে আগত ব্যক্তিদের জন্য। হজরত সুলাইমান (আ.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, সেখানে যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে আসবে, তাকে যেন আল্লাহ গুনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র করে দেন, যেভাবে সে জন্মের দিন নিষ্পাপ ছিল।
এই প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আল্লাহর ক্ষমা, রহমত এবং তাঁর ইবাদতের জন্য পবিত্র স্থানে উপস্থিত হওয়ার গুরুত্ব ফুটে ওঠে।
হাদিসে রয়েছে এই তিন প্রার্থনার বর্ণনা
হজরত আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত সুলাইমান ইবন দাউদ (আ.)-এর এই তিনটি প্রার্থনার কথা উল্লেখ করেছেন।
তথ্যসূত্র: সুনানে আন-নাসায়ি, হাদিস ৬৯৩; পবিত্র কোরআন, সুরা সাদ, আয়াত ৩৫।

