আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যা, ফোন বিক্রির টাকায় কিনলেন বাটন মোবাইল

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক:  শখ করে কেনা আইফোনই কাল হলো নির্মাণশ্রমিক তারেক মিয়ার (২১)। বন্ধুর ফোনের প্রতি লোভ থেকে তাঁকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সহকর্মী সায়েল মিয়ার (২০) বিরুদ্ধে। হত্যার পর আইফোনটি বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে নতুন পোশাক ও একটি বাটন মোবাইল কেনেন তিনি। নিখোঁজ তারেকের সন্ধানে তদন্ত করতে গিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করে পুলিশ।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সায়েল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর রাতে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় কর্মস্থলে তারেককে হত্যা করেন সায়েল। পরে তাঁর মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে রাখা হয়।

নিহত তারেক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের মারফত উল্লাহর ছেলে। অভিযুক্ত সায়েল মিয়াও একই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম নুরুজ্জামান মিয়া।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ভাষ্য, বন্ধুর আইফোন নিজের দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তারেককে হত্যার কথা জানিয়েছেন সায়েল। ঘটনার পরদিন ফোনটি হবিগঞ্জ শহরের এক ব্যক্তির কাছে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তিনি। ওই টাকা দিয়ে নতুন জামা ও একটি বাটন মোবাইল কিনে বাড়িতে ফিরে যান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে একটি নির্মাণাধীন ভবনে একসঙ্গে কাজ করতেন তারেক ও সায়েল। একই গ্রামের বাসিন্দা এবং সমবয়সী হওয়ায় তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। কাজ শেষে রাতে দুজন ওই ভবনেই থাকতেন। সেখানে অন্য কোনো শ্রমিক থাকতেন না।

পুলিশের দাবি, তারেক সম্প্রতি একটি আইফোন-১১ কিনেছিলেন। ২২ অক্টোবর রাতে কাজ শেষে দুজন নিজেদের মুঠোফোনে গান ও সিনেমা দেখছিলেন। এ সময় তারেকের আইফোনটি নেওয়ার পরিকল্পনা করেন সায়েল। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারেককে কুপিয়ে হত্যা করে তাঁর মরদেহ পাশের কচুরিপানায় ভরা ডোবায় ফেলে রাখেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পরদিন নির্মাণাধীন ভবনে আর কাজ করবেন না বলে ঠিকাদারকে জানান সায়েল। এরপর তিনি বাড়িতে চলে গেলেও তারেক আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরিবারের সদস্যরা তারেকের খোঁজে সায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তারেক কাজের জন্য কুমিল্লায় গেছেন। তাঁর এ বক্তব্যে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।

পরে তারেকের পরিবারের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সেই সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে সায়েলকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। রাতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারেককে হত্যার কথা জানান তিনি বলে দাবি পুলিশের।

পরে সায়েলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ ও লাখাই থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ফুলবাড়িয়া গ্রামের একটি ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করে।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় তারেকের বাবা বাদী হয়ে সায়েল মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার সায়েলকে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের ময়নাতদন্ত একই দিন হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment