দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ সব প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি:সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক: দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলে থাকলেও দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব রয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর মধুবাগ খেলার মাঠে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘৪–১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থাই নয়, ব্যাংক, বিমা, করপোরেশন ও শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও সংকটের মধ্যে রয়েছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাজধানীর মতো সরকারের কেন্দ্রীয় অবস্থানেও দিনের বেলায় ও রাতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এতে সারাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

সম্প্রতি ঢাকার বিমানবন্দরে জামায়াতের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিও বক্তব্যে তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার পর লাগেজ পেতে ওই যাত্রীকে তিন ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জমজমের পানি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রথমে কনটেইনার মদিনায় রয়ে গেছে বলে জানানো হলেও পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেটি দেশে এসেছে বলে জানায়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়েছে।
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবাদ করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা করা হয়েছে। তবে শারীরিকভাবে কাউকে আঘাত করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকা সত্ত্বেও আদালতে সংশ্লিষ্ট স্থানে সিসি ক্যামেরা ছিল না—এমন কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হাতকড়া পরানো এবং তাঁকে হেলমেট পরানোর ঘটনায় তাঁরা নিন্দা জানাচ্ছেন। তাঁর মতে, ওই ব্যক্তি শুধু নিজের জন্য নয়, বিমানবন্দরে হয়রানি ও লাগেজ নিয়ে ভোগান্তির শিকার যাত্রী এবং প্রবাসীদের পক্ষেও কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘এখন আর আপনি শুধু জামায়াতে ইসলামের লোক, নেতা নন। এখন আপনি সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী, নির্যাতিত সব মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন।’
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর পাশাপাশি অতীতেও বিভিন্ন রোগে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু লিফলেট বিতরণ নয়, জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল পরিষ্কারসহ প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটি ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে তাদের প্রশংসা করা হবে, আর ব্যর্থ হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করা হবে।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share This Article
Leave a Comment