মিথ্যা ধর্ষণ মামলা: আজ বাদীকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক
2 Min Read
ছবি:দৈনিক উত্তর দিগন্ত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণের অভিযোগে করা একটি মামলাকে তদন্তে মিথ্যা ও বানোয়াট হিসেবে উল্লেখ করার পর মামলার বাদী মোছা. লাবলী আক্তারকে আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন ঠাকুরগাঁওয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হামিদ।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উত্তর পাড়িয়া (নিটালডোবা) গ্রামের মোছা. লাবলী আক্তার (২৮) একই এলাকার মো. সাদ্দাম হোসেনের (৩২) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু মামলা নম্বর ৯৩/২০২৫ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

মামলায় লাবলী আক্তার অভিযোগ করেন, গত ১৪ মার্চ ২০২৫ নুরুল ইসলামের ভুট্টাখেতে তাঁকে একা পেয়ে সাদ্দাম হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

তবে মামলাটি তদন্ত করে বালিয়াডাঙ্গী থানা অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে আদালতে প্রতিবেদন দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বশত্রুতার জেরে এবং একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় সাদ্দাম হোসেনকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ধর্ষণের মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলাটি করা হয়েছে।

পুলিশের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদী নারাজি আবেদন করলে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঠাকুরগাঁওকে নির্দেশ দেন। পরে পিবিআই তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বাদীর আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালত আসামি মো. সাদ্দাম হোসেনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মোছা. লাবলী আক্তারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৭(১) ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন লাবলী আক্তার। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আজই তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

Share This Article
Leave a Comment