৯ কোটির সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি:সংগৃহীত

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী কাওরাইদ এলাকায় সুতিয়া নদীর ওপর প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একটি সেতু। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে সেতুটি পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না।

সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের সেতুতে উঠতে হচ্ছে অস্থায়ী মাটির ঢাল ও মই বেয়ে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এভাবে পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। বৃষ্টি হলে মাটির ঢাল পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গাজীপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, সংযোগ সড়কের জায়গা থেকে সেতুর উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। এ কারণে অস্থায়ীভাবে তৈরি মাটির ঢালটি বেশ খাড়া। বৃষ্টির সময় সেটি পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন অনেকে বাধ্য হয়ে পাশের রেলওয়ে সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান শেখ বলেন, সেতুটি গফরগাঁও ও শ্রীপুরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে পড়েছে। গফরগাঁওয়ের ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত আটটি ইউনিয়নের মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু সেতু নির্মাণ শেষ হলেও ওঠার রাস্তা না থাকায় মানুষকে মই বেয়ে পার হতে হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা মঞ্জুরুল করিম বলেন, সেতুর মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু সংযোগ সড়কের কাজ বাকি। আশপাশে একটি সরকারি, একটি এমপিওভুক্ত ও একটি বেসরকারি স্কুল রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন। বিকল্প হিসেবে রেলওয়ে সেতু দিয়ে চলাচল করাও ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, বৃষ্টি হলে নতুন সেতুতে ওঠার অস্থায়ী পথও ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কায়সার বলেন, যেখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা, সেই জায়গাটি রেলওয়ের। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, এ বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী নাসরিন বেগম বলেন, আগে জায়গাটি অনেক উঁচু ছিল। তখন নানা উপায়ে সেতুতে ওঠার চেষ্টা করতে হতো। বর্তমানে মাটি ফেলে মই বসানো হয়েছে। তবে এটিও নিরাপদ নয়। রেলওয়ে সেতু দিয়ে চলাচল করাও ঝুঁকিপূর্ণ। সংযোগ সড়ক হলে কলেজে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
এ বিষয়ে এলজিইডি গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে। এটি অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার প্রকল্প হওয়ায় প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ ছিল না। এ ধরনের প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।

Share This Article
Leave a Comment