জ্বরের সময় সহজে হজমযোগ্য ৫ প্রোটিন খাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি : সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ডেস্ক

জ্বর হলে অনেকেরই ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হওয়ায় শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে পারে। অথচ অসুস্থতার সময় শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি, বিশেষ করে প্রোটিন, গুরুত্বপূর্ণ।

তাই জ্বরের সময় এমন খাবার বেছে নেওয়া ভালো, যেগুলো একদিকে পুষ্টিকর, অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে সহজে হজম হয়। সহজে খাওয়া ও হজম করা যায়—এমন পাঁচটি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হতে পারে আপনার খাদ্যতালিকায়।

ডিম

জ্বরের সময় ডিম হতে পারে সহজ ও পুষ্টিকর একটি খাবার। একটি বড় ডিমে সাধারণত প্রায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। ডিমে শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড থাকায় এটি সম্পূর্ণ প্রোটিনের উৎস হিসেবে পরিচিত।

সেদ্ধ ডিম বা অল্প তেলে হালকা করে রান্না করা ডিম সাধারণত খেতে সহজ। তবে অসুস্থতার সময় অতিরিক্ত তেল-মসলা দিয়ে ডিম রান্না না করাই ভালো।

দই

দই শুধু সুস্বাদু নয়, এটি প্রোটিনেরও ভালো উৎস। দইয়ের ধরন অনুযায়ী প্রতি পরিবেশনে প্রায় ৮ থেকে ১৫ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন থাকতে পারে। পাশাপাশি এতে ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

জ্বরের সময় সাধারণ, কম চিনি দেওয়া বা বাড়িতে তৈরি দই বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে দুধজাত খাবারে কারও অস্বস্তি হলে তা এড়িয়ে চলা উচিত।

নরম টফু

উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে টফু রাখা যেতে পারে খাবারের তালিকায়। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কাপ টফুতে আনুমানিক ১০ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে। এর সঙ্গে ক্যালসিয়াম ও আয়রনের মতো পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়।

নরম টফু হালকা করে রান্না করে খেলে তা অসুস্থ অবস্থায় তুলনামূলক সহজে খাওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত ঝাল, মসলা ও তেল ব্যবহার না করাই ভালো।

চামড়াবিহীন মুরগির মাংস

চামড়া বাদ দেওয়া রান্না করা মুরগির মাংস উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎস। প্রায় ৮৫ গ্রাম রান্না করা চামড়াবিহীন মুরগির মাংসে আনুমানিক ২১ থেকে ২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে।

জ্বরের সময় মুরগির মাংস হালকা স্যুপ বা ঝোল হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও মসলা ব্যবহার করলে খাবারটি হজমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

অল্প তেলে রান্না বা ভাপানো মাছ

মাছও জ্বরের সময় প্রোটিনের একটি ভালো উৎস হতে পারে। মাছের ধরনভেদে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২০ থেকে ২৫ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন পাওয়া যেতে পারে। কিছু মাছে ভিটামিন বি১২সহ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও থাকে।

অসুস্থ অবস্থায় মাছ ভাজা না করে ভাপিয়ে, অল্প তেলে রান্না করে বা হালকা ঝোলে খাওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও মসলা এড়িয়ে চললে খাবারটি তুলনামূলক সহজে হজম হতে পারে।

শেষ কথা

জ্বরের সময় শুধু প্রোটিন নয়, পর্যাপ্ত পানি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। তবে জ্বরের কারণ ও শারীরিক অবস্থার ওপর খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বা বেশি মাত্রার জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Share This Article
Leave a Comment