পুত্রবধূর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিলেন ব্রুনেইয়ের সুলতান

নিজস্ব প্রতিবেদক
4 Min Read
ছবি: ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ

বিশ্ব ডেস্ক

রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে ‘অনুপযুক্ত আচরণের’ অভিযোগে নিজের পুত্রবধূর সব রাজকীয় উপাধি বাতিল করেছেন ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ। তবে কী ঘটেছিল, যার কারণে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

চলতি মাসের শুরুতে ব্রুনেইয়ের গ্র্যান্ড চেম্বারলেইনের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সুলতানের আদেশে পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর রাজকীয় উপাধি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহর প্রতি অসম্মান এবং রাজপরিবারের একজন সদস্যের স্ত্রী হিসেবে অনুপযুক্ত আচরণের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর কর্মকাণ্ড রাজপরিবারের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে রাবিয়াতুলের কথিত আচরণটি ঠিক কী ছিল, তা প্রকাশ করেনি রাজপরিবারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবি নিউজও বিষয়টি নিশ্চিত করলেও অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেনি।

কে এই রাবিয়াতুল?

৩৩ বছর বয়সী পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহ ব্রুনেইয়ের প্রিন্স আবদুল মালিকের স্ত্রী। ৪৩ বছর বয়সী আবদুল মালিক সিংহাসনের উত্তরাধিকারক্রমে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন।

রাবিয়াতুল এতদিন ‘ইয়াং আমাত মুলিয়া পেঙ্গিরান আনাক ইস্তেরি’ নামে একটি রাজকীয় উপাধি ব্যবহার করতেন। সুলতানের আদেশের পর সেটিসহ তাঁর সব রাজকীয় উপাধি বাতিল করা হয়েছে।

বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ কারণে যে, রাবিয়াতুল এখনো প্রিন্স আবদুল মালিকের স্ত্রী। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

এর আগেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুলতান

রাজপরিবারের সদস্যদের উপাধি প্রত্যাহারের ঘটনা ব্রুনেইয়ে এবারই প্রথম নয়। এর আগে বিবাহবিচ্ছেদের পর সুলতান তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম আবদুল আজিজের রাজকীয় উপাধি বাতিল করেছিলেন। ঘটনাটি ঘটে ২০০৩ সালে।

এর সাত বছর পর, ২০১০ সালে তৃতীয় স্ত্রী আজরিনাজ মাজহার হাকিমের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তাঁর ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে এবারের ঘটনা আলাদা। কারণ, রাবিয়াতুলের ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের কোনো খবর নেই। ফলে রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থাতেই উপাধি হারানোর ঘটনা ব্রুনেইয়ের রাজপরিবারে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১০ দিন ধরে চলেছিল বিয়ের উৎসব

প্রিন্স আবদুল মালিক ও রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর বিয়ে হয় ২০১৫ সালে। রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানের রাজপ্রাসাদে আয়োজিত সেই বিয়ে ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। বিয়েকে ঘিরে টানা ১০ দিন ধরে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা চলে এবং এতে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক অতিথি।

এই দম্পতির চার সন্তান রয়েছে—প্রিন্সেস মুথিয়া, প্রিন্সেস ফাতিয়্যাহ, প্রিন্সেস খালিশাহ ও প্রিন্সেস নাবিলাহ। সন্তানদের বয়স যথাক্রমে ১০, ৮, ৬ বছর এবং ১৬ মাস।

মায়ের রাজকীয় উপাধি বাতিল হলেও সন্তানদের উপাধিতে এর কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

তেলসমৃদ্ধ ব্রুনেইয়ের দীর্ঘদিনের শাসক

প্রিন্স আবদুল মালিক সুলতান হাসানাল বলকিয়াহর প্রথম স্ত্রী রানি সালেহার সন্তান। সুলতানের তিন স্ত্রীর ঘরে মোট ১২ সন্তান রয়েছে।

৮০ বছর বয়সী হাসানাল বলকিয়াহ ১৯৬৮ সালে ব্রুনেইয়ের ২৯তম সুলতান হিসেবে সিংহাসনে বসেন। এরপর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশটি শাসন করে আসছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সিংহাসনে থাকা বিশ্বের শাসকদের তালিকায় তিনি অন্যতম।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত ছোট দেশ ব্রুনেই তেল ও গ্যাসের বিশাল মজুতের জন্য পরিচিত। দেশটির রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ান। সুলতানের সরকারি আবাস ইস্তানা নুরুল ইমানকে বিশ্বের বৃহত্তম আবাসিক প্রাসাদগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। বিশাল এই প্রাসাদে রয়েছে ১ হাজার ৭৮৮টি কক্ষ।

দীর্ঘ শাসনামলে তেলসম্পদের ওপর নির্ভর করে ব্রুনেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে। আর সেই রাজপরিবারেই এবার পুত্রবধূর রাজকীয় উপাধি বাতিলের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment