চাঁদার টাকা না দেওয়ায় হামলা, যুবকের হাতে ৯২ সেলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
আহত সালেকিন ফেরদৌস। ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে স্ত্রীসহ মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন সালেকিন ফেরদৌস। পথে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে চাঁদা দাবি করেন কয়েকজন যুবক। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর বাম হাতের কবজির ওপরের অংশ গুরুতর জখম হয়। পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তাঁর হাতে ৯২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করেছেন আহত সালেকিনের বোন শারমিন আখতার জাহান।

মামলায় শহরের পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকার মো. রানা ও কলেজপাড়া এলাকার মো. সিয়ামকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিন ধরে সালেকিন ও তাঁর স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন আসামিরা। টাকা না দিলে তাঁদের সন্তানকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সালেকিন স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রেসক্লাবের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাঁদের পথরোধ করেন। এ সময় তাঁরা চাঁদা দাবি করেন। সালেকিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে সিয়াম সালেকিনের বাম হাত চেপে ধরেন। আর রানা ধারালো ব্লেড দিয়ে তাঁর বাম হাতের কবজির ওপরের অংশে আঘাত করেন। এতে হাতের রগ, লিগামেন্ট ও পেশি কেটে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

গুরুতর আহত অবস্থায় সালেকিনকে স্বজনেরা প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার শ্যামলীর অ্যালায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসকেরা তাঁর হাতে ৯২টি সেলাই দেন।

মামলার বাদী শারমিন আখতার জাহান বলেন, তাঁর ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এর আগেও চাঁদার দাবিতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সালেকিনের ভাই শামীম ফেরদৌস অভিযোগ করেন, হামলায় জড়িত একজনের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা রয়েছে। তাঁর দাবি, এরপরও ওই ব্যক্তি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার আসামিরা ঘটনার পর আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

Share This Article
Leave a Comment