নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা ও করিডোরবিরোধী আন্দোলন। দাবি মানা না হলে বন্দর অভিমুখে লংমার্চসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। প্রয়োজনে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলেন তাঁরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশের আগে সেখানে একটি মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহি শাহারিয়া রেজা বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে তারেক রহমান বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ।
জনগণের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। অথচ ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই এনসিটি ও সিসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এবং বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত অর্থবছরে টার্মিনালটি এক হাজার কোটি টাকার বেশি লাভ করেছে এবং এর সক্ষমতার প্রায় পুরোটাই ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাহি শাহারিয়া রেজার অভিযোগ, এ ধরনের লাভজনক একটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য, এনসিটির পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে। ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনালের দায়িত্ব দেওয়া হলে সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই টার্মিনালের আয় দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো ও টার্মিনাল নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি বিদেশিদের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে, সরকারকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, ১ অক্টোবর মন্ত্রিসভা এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। তাঁর দাবি, গত বছর টার্মিনালটি থেকে প্রায় ৬ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা এবং তার আগের বছর ৫ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে।
সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান কেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে কনসেশনে দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে। তাঁর মতে, অপারেটর নিয়োগ বা যৌথ উদ্যোগের মতো বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও কনসেশন পদ্ধতি দেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি দাবি করেন, টার্মিনাল থেকে বছরে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব এলেও প্রস্তাবিত কনসেশন চুক্তিতে বাংলাদেশ পাবে মাত্র ২৩ মিলিয়ন ডলার। তাই এই চুক্তি না করার দাবি জানান তিনি।
সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে সারা দেশের মানুষকে নিয়ে বন্দর অভিমুখে লংমার্চসহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বন্দর রক্ষা ও করিডোরবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক ড. আবু সাঈদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া দেশের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিষয়টি বিবেচনা করেই সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরসংক্রান্ত চুক্তি সংসদে আলোচনা করা উচিত। কেন বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হচ্ছে, সেটিও জনগণের সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
আবু সাঈদের ভাষ্য, জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে গিয়ে বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হলে সরকারের জন্য তা অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াবে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আরও জোরালো করার ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
সমাবেশে বন্দর রক্ষা ও করিডোরবিরোধী আন্দোলনের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা ও করিডোরবিরোধী আন্দোলন। দাবি মানা না হলে বন্দর অভিমুখে লংমার্চসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। প্রয়োজনে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলেন তাঁরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশের আগে সেখানে একটি মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহি শাহারিয়া রেজা বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে তারেক রহমান বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। জনগণের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। অথচ ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই এনসিটি ও সিসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এবং বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত অর্থবছরে টার্মিনালটি এক হাজার কোটি টাকার বেশি লাভ করেছে এবং এর সক্ষমতার প্রায় পুরোটাই ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাহি শাহারিয়া রেজার অভিযোগ, এ ধরনের লাভজনক একটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য, এনসিটির পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে। ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনালের দায়িত্ব দেওয়া হলে সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই টার্মিনালের আয় দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো ও টার্মিনাল নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি বিদেশিদের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে, সরকারকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, ১ অক্টোবর মন্ত্রিসভা এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। তাঁর দাবি, গত বছর টার্মিনালটি থেকে প্রায় ৬ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা এবং তার আগের বছর ৫ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে।
সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান কেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে কনসেশনে দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে। তাঁর মতে, অপারেটর নিয়োগ বা যৌথ উদ্যোগের মতো বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও কনসেশন পদ্ধতি দেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি দাবি করেন, টার্মিনাল থেকে বছরে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব এলেও প্রস্তাবিত কনসেশন চুক্তিতে বাংলাদেশ পাবে মাত্র ২৩ মিলিয়ন ডলার। তাই এই চুক্তি না করার দাবি জানান তিনি।
সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে সারা দেশের মানুষকে নিয়ে বন্দর অভিমুখে লংমার্চসহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বন্দর রক্ষা ও করিডোরবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক ড. আবু সাঈদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া দেশের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিষয়টি বিবেচনা করেই সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরসংক্রান্ত চুক্তি সংসদে আলোচনা করা উচিত। কেন বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হচ্ছে, সেটিও জনগণের সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
আবু সাঈদের ভাষ্য, জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে গিয়ে বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হলে সরকারের জন্য তা অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াবে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আরও জোরালো করার ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
সমাবেশে বন্দর রক্ষা ও করিডোরবিরোধী আন্দোলনের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন।

