নিজস্ব প্রতিবেদক :সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার পর এ পর্যায়ে পৌঁছায়।
একই সঙ্গে মামলার তিন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। কারাগারে থাকা আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি এখন বিচারের জন্য প্রস্তুত। অন্য তিন আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অন্য তিন আসামি কারা
অভিযোগপত্র আমলে নেওয়া অন্য তিন আসামি হলেন আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক, ভাগনে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল। তাঁরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
জ্ঞাত আয়ের বাইরে ১৭২ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আনিসুল হকের নিজের নামে এবং বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ আয়ের ভিত্তিতে নিট গ্রহণযোগ্য আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। সে হিসাবে তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
তাঁদের মধ্যে জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাংকের শেয়ার ও এফডিআরের তথ্য
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে থাকা সম্পদের মধ্যে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার এবং ১৩ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে।
এ ছাড়া শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ারের তথ্য পাওয়া গেছে।
২৩ ব্যাংক হিসাবে ৭৩৭ কোটি টাকার লেনদেন
দুদকের তদন্তে আনিসুল হক এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এসব হিসাবে জমা ও উত্তোলন মিলিয়ে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার লেনদেন হয়েছে, যেগুলোকে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক।
মামলার অভিযোগগুলো এখন আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগপত্রে উত্থাপিত বিষয়গুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে আসামিদের দায় নির্ধারিত হবে।

