আন্তর্জাতিক ডেস্ক :ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিরোধী শিবির—কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না বলে বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক এই অচলাবস্থা কাটাতে শেষ পর্যন্ত জোট গঠন ও দলগুলোর মধ্যে সমঝোতাই হয়ে উঠতে পারে প্রধান উপায়।
ইসরায়েলের এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরব ভোটারদের মধ্যেও ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় বেশি।
আগের নির্বাচনে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১০টি আসন পেয়েছিল। এবার বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলের পরবর্তী পার্লামেন্ট নেসেটে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের গুরুত্ব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকার গঠনে আরব দলগুলো কি নির্ধারক হবে?
বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বাড়লেও তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। নেতানিয়াহু ও বিরোধী শিবিরের নেতারা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নীতি, আরবদের বাড়িঘর উচ্ছেদ এবং আরব অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে সরাসরি অংশ নেবে, নাকি বাইরে থেকে কোনো পক্ষকে সমর্থন দেবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাদের সম্ভাব্য অবস্থান রাজনৈতিক দর-কষাকষিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কী হবে?
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসনসংখ্যা ১২০। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন। বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষ এই সংখ্যায় পৌঁছাতে না পারায় সরকার গঠনের জন্য দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন হবে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে এমন একজন নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারেন, যাঁর পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
দায়িত্ব পাওয়া নেতাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করে জোট গঠনের চেষ্টা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আসন ভাগাভাগি, নীতিগত সমঝোতা এবং জোটের শর্ত নিয়ে দর-কষাকষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। আর জোট গঠনের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা
নেতানিয়াহু ও তাঁর বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা সরকার গঠনের পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নতুন সরকার গঠনে কয়েক দফা আলোচনা ও দর-কষাকষির প্রয়োজন হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে চূড়ান্ত আসনসংখ্যা, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপর। বুথফেরত জরিপের ফল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
সূত্র: আল জাজিরা

