টাঙ্গাইলে নির্মাণাধীন ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ অনেক সময় রাতের আঁধারে করা হচ্ছিল।

এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা নির্মাণকাজের ওপর নজর রাখতে শুরু করেন। একপর্যায়ে রাতের বেলা ব্রিজের একটি অংশে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। পরে এ-সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, ‘মাইজখাড়ায় নির্মাণাধীন ব্রিজটিতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। সরকার এত টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, অথচ কাজে এমন অনিয়ম কেন হচ্ছে, সেটি তদন্ত হওয়া দরকার। ঠিকাদারের সঙ্গে স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই।’

আরেক বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, ‘ব্রিজটির কাজ দিনের বেলায় করার কথা থাকলেও গভীর রাতে কাজ করা হচ্ছে। এলাকার কয়েকজন যুবক রাতে গিয়ে দেখতে পান, রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে।’
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল উপজেলাধীন বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে ব্রিজটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ।
তবে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ফাঁকা জায়গাগুলোর ভেতর থেকে শাটারিং বের করার সুযোগ ছিল না। বড় অংশগুলোতে শাটার দিয়ে কাজ করা হলেও এই অংশে বাঁশ দিয়ে স্ল্যাব বানিয়ে তার ওপর সিমেন্টের বস্তা ও খাঁচা দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে।’

বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা আমরা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি মূলত জেলা প্রকৌশল দপ্তরের তদারকির বিষয়। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।’

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Share This Article
Leave a Comment