ঠাকুরগাঁওয়ে আদালত চত্বরে হামলায় আহত পুলিশ সদস্য জামিন পাননি আ.লীগের ১৭ নেতা-কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক
2 Min Read
ছবি: দৈনিক উত্তর দিগন্ত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁওয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৭ নেতা-কর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় হামলায় রবিউল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্য আহত হন।

মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আহত পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলামের ভাষ্য, আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার সময় দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি আকস্মিকভাবে তাঁর মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান। ঘটনার পর আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ আগস্ট পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। মামলায় পীরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আকতারুল ইসলামসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পীরগঞ্জের ভাকুরা ধনীপাড়া গ্রামে আকতারুল ইসলামের বাড়িতে গোপন বৈঠক করে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহারভুক্ত ২০ আসামির মধ্যে ১৭ জন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তাঁরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তাঁর মক্কেলরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। মামলার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত ফেসবুকের ছবি ও স্ক্রিনশটে সুনির্দিষ্ট তারিখ বা তথ্য নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ছবিগুলো পুরোনো হতে পারে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে।

শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, তাঁরা পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

Share This Article
Leave a Comment