স্বাস্থ্য ডেস্ক
ডায়াবেটিস এখন শুধু উন্নত বিশ্বের সমস্যা নয়; বাংলাদেশেও দিন দিন বাড়ছে এ রোগের প্রকোপ। নগরায়ণ, পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের কারণে অনেকের জীবনেই জায়গা করে নিচ্ছে ডায়াবেটিস। এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ হলেও শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারেন না আক্রান্ত ব্যক্তি। তবে কিছু শারীরিক পরিবর্তন ও উপসর্গ রয়েছে, যেগুলো ডায়াবেটিসের সতর্কসংকেত হতে পারে।
যেসব লক্ষণে সন্দেহ করবেন
ডায়াবেটিসের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
– অস্বাভাবিকভাবে ঘন ঘন পানির পিপাসা পাওয়া
– বারবার প্রস্রাব হওয়া
– স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্ষুধা লাগা
– কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের ওজন কমে যাওয়া
এসব লক্ষণ একসঙ্গে বা একাধিক দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।
আরও যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে
প্রধান লক্ষণগুলোর পাশাপাশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে আরও কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—ত্বকে চুলকানি, বিভিন্ন ধরনের ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, ঘন ঘন চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের প্রয়োজন হওয়া, পায়ে জ্বালাপোড়া বা অবশভাব এবং কাটা-ছেঁড়া সহজে না শুকানো।
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
কারা রয়েছেন বেশি ঝুঁকিতে
শুধু উপসর্গ দেখা দিলেই ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি, শারীরিক পরিশ্রম কম, কিংবা পরিবারের বাবা-মা বা ভাইবোনের ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন ব্যক্তি, রক্তে এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা ৩৫-এর নিচে, ট্রাইগ্লিসারাইড ২৫০-এর বেশি—এমন ব্যক্তিদেরও ঝুঁকির মধ্যে ধরা হয়।
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হয়েছিল এমন নারী এবং হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ডায়াবেটিস পরীক্ষার বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শিশুদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি
ডায়াবেটিস শুধু বড়দের রোগ নয়। অতিরিক্ত ওজনের শিশুদের পাশাপাশি যাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি, ফুফু বা ভাই-বোনের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদেরও ঝুঁকি থাকতে পারে।
এ ছাড়া শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার লক্ষণ রয়েছে, জন্মের সময় ওজন কম ছিল অথবা মায়ের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়েছিল—এমন শিশুদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থায় কখন পরীক্ষা করবেন
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভধারণের পরপরই একবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা যেতে পারে। পাশাপাশি গর্ভাবস্থার ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে আবার পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
যেসব নারীর গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, তাদের সন্তান জন্ম দেওয়ার ৬ থেকে ১২ সপ্তাহ পরও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা উচিত।
মনে রাখুন, ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে ঝুঁকিতে থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। কোনো উপসর্গ থাকলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

