ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবি (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিউল ইসলাম আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে প্রতিদিনের মতো চায়ের দোকান বন্ধ করে রবিউল আরও তিনজনের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া একদল ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
এতে রবিউল ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর সঙ্গে থাকা মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০) আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে মোক্তার বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রবিউলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মাসুদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
রবিউল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় তাঁর ভাতিজা সুমন শেখ হত্যার বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রায় আড়াই মাস আগে গত ২৭ জুন বিকেলে কাশিয়ানী থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সুমন শেখ (২৪) কুপিয়ে হত্যার শিকার হন। তিনি ছিলেন কলেজছাত্র।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড়ভাগ গ্রামের কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখের সঙ্গে সুমন শেখের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার তাঁদের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
সুমন হত্যার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে সুমনের পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে দিনে-রাতে দফায় দফায় এসব ঘটনা ঘটে। অন্তত ১০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে তাঁরা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় কয়েকটি বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙচুরের পাশাপাশি টেলিভিশন, ফ্রিজ, সোফা, জামাকাপড়সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়া হয়। একটি পাকা বাড়ির ছাদও হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
সুমন শেখ হত্যার প্রায় আড়াই মাস পর এবার তাঁর চাচা রবিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। পরপর এসব ঘটনায় বড়ভাগ ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

