মা-বাবা দুজনই নেই, অপারেশনের টাকাও নেই—বাঁচতে চান জাহিদুল (২৫)

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বাবা নেই। মা-ও নেই। পাশে নেই পরিবারের কোনো সদস্য। একদিকে দীর্ঘদিনের লিভারের জটিল রোগ, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল খরচ। সব মিলিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের জাহিদুল ইসলামের (২৫) জীবন।

ছোটবেলা থেকেই লিভারের জটিল রোগে ভুগছেন জাহিদুল। অসচ্ছল পরিবারের সন্তান হওয়ায় শৈশব থেকেই তার চিকিৎসা নিয়মিতভাবে করানো সম্ভব হয়নি। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বারবার বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে রোগটি জটিল হয়েছে, কমেছে কাজ করার সামর্থ্যও।

এর মধ্যে জীবনে নেমে এসেছে আরও বড় শূন্যতা। প্রায় এক বছর আগে মারা যান জাহিদুলের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মাত্র আট মাস আগে মাকেও হারান তিনি। বাবা-মা দুজনকে হারিয়ে এখন অনেকটাই নিঃসঙ্গ জাহিদুল।

অসুস্থতার সঙ্গে একাকিত্বের লড়াই

বর্তমানে ঠাকুরগাঁও শহরের মুসলিম নগর এলাকায় থাকেন জাহিদুল। যে বাড়িতে আগে ভাড়া থাকতেন, সেই বাড়ির মালিক তার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে মানবিক কারণে এখনো তাকে সেখানে থাকতে দিয়েছেন।

জীবন চালাতে একসময় একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন জাহিদুল। দোকানে কাজ করে যে সামান্য আয় হতো, তা দিয়েই নিজের খাওয়া, থাকা ও চিকিৎসার খরচ চালানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এখন আর আগের মতো নিয়মিত কাজ করতে পারেন না।

ফলে চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, দৈনন্দিন জীবন চালানোই তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন

সম্প্রতি চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জাহিদুলের দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। চিকিৎসায় আর দেরি হলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

কিন্তু অপারেশনের খরচ জোগাড় করার মতো সামর্থ্য নেই তার। বাবা-মা নেই, পরিবারের আর্থিক সহায়তাও নেই। নিজের আয়ও এখন বন্ধ হওয়ার পথে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কীভাবে করাবেন—এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জাহিদুল।

অসুস্থ শরীর নিয়ে দিনের পর দিন এভাবেই অপেক্ষা করছেন তিনি। কখনো হয়তো মনে হয়, চিকিৎসা হলে আবার কাজে ফিরবেন, নিজের পায়ে দাঁড়াবেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই আশাটুকুও যেন ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে।

একটু সহযোগিতা পেলেই হয়তো বাঁচতে পারব’

জাহিদুলের জীবন এখন অনেকটা নির্ভর করছে অন্যের সহায়তার ওপর। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বাবা-মায়ের মৃত্যু এবং আর্থিক সংকট—সবকিছু একসঙ্গে তাকে এমন এক অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখান থেকে একা ঘুরে দাঁড়ানো তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

জাহিদুলের পরিচিতরা বলছেন, তার এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দ্রুত চিকিৎসা ও অপারেশনের ব্যবস্থা করা। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং মানবিক ব্যক্তিরা পাশে দাঁড়ালে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হতে পারে।

একসময় যে তরুণ নিজের পরিশ্রমে জীবন চালানোর চেষ্টা করতেন, আজ সেই জাহিদুলই অন্যের সহযোগিতার আশায় দিন কাটাচ্ছেন।

বাবা-মায়ের ছায়া হারানো জাহিদুলের জীবনে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা। হয়তো কারও সামান্য সহায়তা, কারও একটি উদ্যোগ কিংবা কয়েকজন মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই তাকে আবার চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে পারে।

জীবনটা এখনো শেষ হয়ে যায়নি—চিকিৎসার সুযোগ পেলে হয়তো জাহিদুল আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। ফিরে যেতে পারবেন কর্মজীবনে। নিজের জীবনটাকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তাই জাহিদুলের চিকিৎসার জন্য সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তার পরিচিতরা। তাদের প্রত্যাশা, মানুষের সহমর্মিতায় অসুস্থ জাহিদুল আবারও জীবনের আলো দেখতে পাবেন।

Share This Article
Leave a Comment