পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে অসুস্থ ১৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে ১৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সোমবার দুপুরে তাদের মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা ও খিচুনিসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করার পরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ নামের প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হচ্ছিল। দুধ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো দেখা যায়। আবার কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায় দেখতে পান শিক্ষকরা।

বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানানো হয়। একই সঙ্গে দুধের প্যাকেটের ছবি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁকে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে আসেন মনোয়ার হোসেন। তিনি নিজে ওই দুধ পান করে পরীক্ষা করেন এবং দুধে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান। এরপর শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলেন।

শিক্ষকরা জানান, দুধ পান করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা ও খিচুনিসহ বিভিন্ন উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলে, ‘দুধ খাওয়ার পর থেকে আমার মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয়। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে আমাকে হাসপাতালে আনা হয়।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, ‘দুধ বিতরণের সময়ই আমরা কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং কিছু দুধ দইয়ের মতো দেখতে পাই। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাই। একই সঙ্গে দুধ বিতরণ না করার জন্য বলি। কিন্তু স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন এসে নিজে দুধ পান করে সবাইকে খেতে বলেন। এরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বিমন দেবনাথ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৬ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। অনেকেই ভালো আছে। আমরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি হাসপাতালে গিয়েছি। শিক্ষার্থীদের গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Share This Article
Leave a Comment