-টিন আছে, আয় নেই? অনলাইনে যেভাবে জমা দেবেন শূন্য করের রিটার্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য ডেস্ক:  ই-টিন (e-TIN) নিবন্ধন করেছেন, কিন্তু বর্তমানে কোনো আয় নেই? এমন পরিস্থিতিতে কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে। আয় না থাকলেই যে রিটার্নের প্রয়োজন হবে না, বিষয়টি সব ক্ষেত্রে এমন নয়। আইন অনুযায়ী যাদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, তাদের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই রিটার্ন জমা দিতে হবে।

বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইন ই-রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায়। ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে করদাতারা অনলাইনে নিজেদের রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।

শূন্য করের রিটার্ন কী?

যে রিটার্নে হিসাব অনুযায়ী কোনো আয়কর পরিশোধ করতে হয় না, সেটিকে সাধারণভাবে শূন্য করের রিটার্ন বলা হয়। তবে কর দিতে হবে না বলে রিটার্নের প্রতিটি ঘরে শূন্য বসিয়ে দেওয়া সঠিক পদ্ধতি নয়।

ব্যাংকে জমা টাকা, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, ঋণ এবং ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো প্রযোজ্য তথ্য রিটার্নে সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে যা জানা প্রয়োজন

রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের করমুক্ত আয়ের সীমা, রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা এবং প্রযোজ্য নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। করমুক্ত সীমার মধ্যে আয় থাকলেই প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, এমন নয়।

যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেবেন

১. ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করুন

প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সরকারি ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধন সম্পন্ন করে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।

২. রিটার্ন দাখিলের অপশন নির্বাচন করুন

অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার পর সংশ্লিষ্ট করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের অপশনে যান। এরপর নির্দেশনা অনুসারে ব্যক্তিগত তথ্য এবং আয়ের বিবরণ পূরণ করুন।

৩. আয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিন

আপনার আয় না থাকলে সেটি প্রযোজ্য অংশে সঠিকভাবে উল্লেখ করুন। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, দায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তব অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে পূরণ করুন।

৪. দেওয়া তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন

রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য পরীক্ষা করুন। কোনো আয়, সম্পদ বা দায়ের তথ্য গোপন করা কিংবা প্রকৃত তথ্যের পরিবর্তে অনুমাননির্ভর তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৫. রিটার্ন জমা দিয়ে প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করুন

সব তথ্য যাচাই শেষে পোর্টালের নির্দেশনা অনুসারে রিটার্ন সাবমিট করুন। জমা দেওয়ার পর যে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা অন্যান্য প্রমাণপত্র পাওয়া যায়, তা ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে বলে এগুলোর একটি কপি নিজের কাছে রাখা ভালো।

আয় না থাকলেও সতর্ক থাকুন

ই-টিন থাকলেও আয় না থাকলে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আপনার ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক কি না, তা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুযায়ী যাচাই করুন। রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হলে প্রকৃত আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে তা পূরণ করুন।

মনে রাখবেন, করের পরিমাণ শূন্য হওয়া এবং রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকা এক বিষয় নয়। সঠিক তথ্য দিয়ে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করাই ভবিষ্যতের অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায়।

সরকারি ই-রিটার্ন পোর্টাল: https://etaxnbr.gov.bd

বিশেষ দ্রষ্টব্য: করমুক্ত আয়ের সীমা ও করসংক্রান্ত নিয়ম করবর্ষভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করুন।

Share This Article
Leave a Comment