আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
4 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ গোলাগুলি শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি ফেরার পথে অবরোধের কারণে প্রায় দুই হাজার পর্যটক উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় পর্যটকেরা সাজেক ছাড়েন। তবে আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উজোবাজার এলাকায় তাঁদের যাত্রা আটকে যায়।

অবরোধকারীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় পর্যটকদের গাড়িবহর সামনে এগোতে পারছিল না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর ওই এলাকা ছাড়ে। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা

সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার (২১ অক্টোবর) দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ অবরোধ চলবে। একই সঙ্গে বুধবারের মধ্যে সাজেক থেকে পর্যটকদের চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

অবরোধের কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখার কথা জানান। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে শুরু করেন। সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন জানান, সাধারণত সকাল সাড়ে ১০টায় পর্যটকবাহী গাড়ি খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গাড়িবহর রওনা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন।

সশস্ত্র সদস্যদের সরানোর দাবি

এর আগে ১৫ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সংগঠন দুটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়।

অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। একই দাবিতে ১১ অক্টোবরও অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার দাবি, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

পর্যটন ব্যবসায় ক্ষতি, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, অবরোধের কারণে পর্যটকেরা সাজেক ছেড়ে যাচ্ছেন। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন।

তিনি বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে শুধু পর্যটক ও ব্যবসায়ীরাই নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এতে খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা এবং কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

Share This Article
Leave a Comment