ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় শাওন আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পুলিশের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করা হয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শাওন আমিনের বিরুদ্ধে ডিবিতে সাইবার সুরক্ষা আইনের একটি মামলা তদন্তাধীন। মামলাটি করা হয়েছে ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে। মামলার নম্বর ৪১/২৪৪। এতে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২৫(২) ও ২৭ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ রহিত করে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শাওন আমিনের বিরুদ্ধে আটোয়ারী থানায় সাইবার অপরাধসংক্রান্ত তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মুলতবি রয়েছে। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সাংবাদিক জয় মহন্ত অলকের করা একটি প্রসিকিউশন মামলা তদন্তাধীন। ঢাকার একটি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবির ভাষ্য, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করার সময়ও শাওন আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
ডিবিতে তদন্তাধীন একটি মামলার আসামি কুঞ্জমোহন পালকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাওন আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুঞ্জমোহন পাল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে শাওন আমিনকে জড়িয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে ডিবি জানিয়েছে।
জবানবন্দিতে কুঞ্জমোহন পাল দাবি করেন, শাওন আমিন তাঁকে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসংবলিত পোস্ট করাতেন। বিভিন্ন ব্যক্তির অশ্লীল ছবি পোস্ট করানোর অভিযোগও করেন তিনি। এসব কাজের বিনিময়ে তাঁকে টাকা দেওয়া হতো বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি মেয়ের অশ্লীল ভিডিও শাওন আমিনের নির্দেশে কুঞ্জমোহন পালের মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছিল বলেও জবানবন্দিতে দাবি করা হয়েছে।
কুঞ্জমোহন পাল আরও দাবি করেন, ‘ঠাকুরগাঁও আপডেট’ ফেসবুক পেজের মূল অ্যাডমিন শাওন আমিন। তাঁর দেওয়া পোস্ট ওই পেজে প্রকাশ করা হতো। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওও সেখানে প্রকাশ করা হতো। এসব ছবি ও ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হতো বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়ে পোস্ট প্রকাশ করে তাঁদের ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও শাওন আমিনের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে। এসব ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবি সূত্র জানায়, শাওন আমিনকে গ্রেপ্তারের আগে তাঁর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের হালিশহর থানার সহযোগিতায় ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে ঠাকুরগাঁও ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
শাওন আমিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে আদালত আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন শাওন আমিনের জামিনের জন্য আবেদন করা হবে।’
অন্যদিকে পুলিশ শাওন আমিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ওই আবেদনের ওপর শুনানি হবে। রিমান্ড মঞ্জুর হবে কি না, সেদিন আদালতের সিদ্ধান্তের পর জানা যাবে।

