নিউজ ডেস্ক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) অনুমোদন পাওয়া গেলেই ইউনিটটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
এই পর্যায়ে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো, টারবাইনের সঙ্গে জেনারেটরের সমন্বয় এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
পাওয়ার স্টার্ট-আপ শুরু করতে প্রকল্পটির অপারেটিং অর্গানাইজেশনকে বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে। এ পর্যায়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দ্রুত ও সমন্বিত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বায়রা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড-সংশ্লিষ্ট সংস্থা, সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নিউক্লিয়ার ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট সংস্থা এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটকে নিরাপদভাবে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার পর শুরুতে প্রায় ৩ শতাংশ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এ পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।
উৎপাদন শুরুর পর কয়েক মাস পরীক্ষামূলকভাবে কেন্দ্রটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রম টানা ৭ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত চলতে পারে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।
বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

