জেলা প্রতিনিধি: কক্সবাজার সরকারি কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল ‘দোলনচাঁপা’ থেকে ২০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের পর এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে কলেজ প্রশাসনের সহযোগিতায় হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীর নাম শরিফা (২১)। তিনি কক্সবাজার সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকায়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে দোলনচাঁপা মহিলা হোস্টেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শরিফার হেফাজত থেকে ২০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফা জানিয়েছেন, হ্নীলা থেকে তাঁর এক ‘আন্টি’ পার্সেলের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো পাঠিয়েছিলেন। পরে সেগুলো তাঁর হেফাজতে রাখা হয়।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় একটি চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এদিকে, কলেজের নারী হোস্টেলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হোস্টেলটিতে পর্যাপ্ত নজরদারি নেই এবং সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই। এ কারণে হোস্টেলের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও হোস্টেল সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এনেছে। শিক্ষাজীবনে থাকা একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, শরিফার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাঁর বাবা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সুপার। পরিবারের সদস্যদের পড়াশোনার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, শরিফার এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আগে কোনো তথ্য তাঁদের জানা ছিল না।
তাঁদের মতে, ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো বিষয় বা চক্রান্ত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। প্রকৃত ঘটনা বের করতে পুলিশকে আরও গভীরভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

