‘৭১-এর রাজাকার, ৯০-এর স্বৈরাচার ও ২৪-এর বেইমানরা এক হতে পারে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
2 Min Read
ছবি:সংগৃহীত

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: ১৯৭১ সালের রাজাকার, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করা ব্যক্তিরা প্রয়োজনে একজোট হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তবে জাতীয়তাবাদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকলে এসব শক্তি কোনো ক্ষতি করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ে জেলা বিএনপির আয়োজনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এসব আন্দোলনে জিয়া পরিবার, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের অনেক নেতা-কর্মী মামলা ও কারাবরণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এখন বিভিন্ন জায়গায় ‘হাইব্রিড’ নেতা-কর্মীদের দলে জায়গা নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ত্যাগী নেতা-কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে ফরহাদ হোসেন আজাদ দাবি করেন, তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি তৃণমূলের মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করছে। তিনি বলেন, মানবিক ও সর্বজনীন বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি মানবাধিকারের ক্ষেত্রেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা এবং স্বাস্থ্য খাতে কর্মী নিয়োগের কথা উল্লেখ করেন। এসব কর্মসূচি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে এবং আগামী মাস থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা জানান তিনি।

সমাবেশের শেষ দিকে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান ফরহাদ হোসেন আজাদ। সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, ককটেল ও বোমা হামলার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশ শেষে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share This Article
Leave a Comment