নিউজ ডেস্ক: রিজিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত। রিজিক বলতে শুধু খাদ্য কিংবা অর্থ-সম্পদকে বোঝায় না; বরং মানুষের জীবন ধারণ ও চলার পথে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উপকরণই এর অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এবং তিনি তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যার উৎস সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-ত্বালাক, আয়াত: ৩)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, বান্দার রিজিক এমন উৎস থেকেও আসতে পারে, যার কথা সে আগে কখনো ভাবেনি।
আল্লাহর নির্ধারিত সময় ও ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী মানুষের রিজিক তার কাছে পৌঁছে যায়। তাই রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় না পড়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করাই মুমিনের জন্য কল্যাণকর।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা সমস্ত সৃষ্টির ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন, আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে, তখন আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৬৫৩)
ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর একটি প্রসিদ্ধ উক্তিতেও রিজিকের বিষয়ে আল্লাহর ওপর ভরসার কথা উঠে এসেছে।
তিনি বলেছেন, ‘যা কিছু তোমার জন্য লিখিত সেটি পাহাড়ের চূড়ায় থাকলেও তোমারই হবে, আর যা কিছু তোমার জন্য লেখা হয়নি সেটি দুই ঠোঁটের মধ্যখানে থাকলেও তোমার হবে না।’
তাই জীবনে রিজিক নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা উচিত। পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব ও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং বিশ্বাস রাখতে হবে—আল্লাহই সর্বোত্তম রিজিকদাতা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা করার এবং সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

