বিনোদন ডেস্ক: জীবনের সুখ-দুঃখে একজন ভালো বন্ধু, সঙ্গী কিংবা পথপ্রদর্শককে পাশে পাওয়া নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের। একটি সম্পর্ক শুধু ভালো লাগা বা আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পারস্পরিক যত্ন, দায়িত্ব ও বোঝাপড়া।
প্রিয় সেই মানুষটির প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ করে দিতে প্রতিবছর ৩ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস।
এই দিনকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা প্রিয় মানুষের জন্য নানা পরিকল্পনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই দেখা যায় একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি, আবেগঘন ক্যাপশন ও ভালোবাসার নানা প্রকাশ।
তবে বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবসের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে দিবসটির প্রচলন শুরু হয়। পরে ২০১৬ সালের দিকে এটি আরও পরিচিতি পায়। ১ আগস্ট পালিত গার্লফ্রেন্ড ডের আদলে ছেলেদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের উদ্দেশ্যেই দিবসটি উদযাপনের প্রবণতা তৈরি হয়।
বর্তমানে যেকোনো বিশেষ দিবসের মতো বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রিয় মানুষকে নিয়ে পোস্ট, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন অনেকে। কেউ সম্পর্কের পুরোনো ও বর্তমান মুহূর্তের ছবি পাশাপাশি রেখে তৈরি করছেন ভিডিও বা রিলস। আবার কেউ সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে না চেয়ে শুধু হাত ধরা, কফির কাপ হাতে থাকা কিংবা পেছন থেকে তোলা ছবির মাধ্যমে দিনটির অনুভূতি প্রকাশ করছেন।
এদিকে দিবসটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিঙ্গেলদের নানা মজার পোস্ট, মিম ও ট্রলও দেখা যাচ্ছে। ফলে ভালোবাসার প্রকাশের পাশাপাশি দিনটি নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ হাস্যরসের পরিবেশ।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে প্রিয় মানুষকে সময় দেওয়াকেও অনেকে এই দিনের বিশেষ উদযাপন হিসেবে দেখছেন। পছন্দের বই, গ্যাজেট, সুগন্ধি কিংবা হাতে লেখা চিঠি উপহার দেওয়ার পাশাপাশি একসঙ্গে খেতে যাওয়া, ঘুরতে বের হওয়া বা ঘরে বসে সিনেমা দেখেও দিনটি কাটাতে পারেন অনেকে।
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক পুরুষই নিজেদের অনুভূতি বা কষ্ট সহজে প্রকাশ করেন না। ফলে সম্পর্কে তাদের যত্ন ও অনুভূতির অনেকটাই অপ্রকাশিত থেকে যায়। এমন একটি দিন প্রিয় মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ তৈরি করতে পারে।
দামি উপহারের চেয়ে প্রিয় মানুষকে তার গুরুত্ব বোঝানোই হতে পারে এই দিনের মূল বিষয়। ‘তুমি আমার জীবনে আছ, এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ’—এমন একটি ছোট্ট কথাও প্রিয় মানুষের দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে পারে।

