জীবনযাপন ডেস্ক: হার্ট অ্যাটাক একটি গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা। সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গেলে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ এবং এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, সে বিষয়ে সবার সচেতন থাকা জরুরি।
হার্ট অ্যাটাকের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
হার্ট অ্যাটাকের সময় অনেকের বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী ভাব বা ব্যথা অনুভূত হয়। এই অস্বস্তি কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে, আবার কমে গিয়ে কিছুক্ষণ পর ফিরে আসতে পারে।
এ ছাড়া ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় কিংবা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং অস্বাভাবিক দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না।
হার্ট অ্যাটাক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়
১. দ্রুত জরুরি সাহায্য নিন
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ করুন। বাংলাদেশে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জরুরি সহায়তা চাইতে পারেন।
২. রোগীকে বিশ্রামে রাখুন
রোগীকে আরামদায়ক অবস্থায় বসতে সাহায্য করুন এবং হাঁটাচলা বা শারীরিক পরিশ্রম করতে দেবেন না। রোগীকে একা না রেখে তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে খেয়াল রাখুন।
৩. ওষুধের বিষয়ে সতর্ক থাকুন
চিকিৎসকের আগে থেকে দেওয়া ওষুধ থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে সাহায্য করুন। অ্যাসপিরিন কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে, তবে অ্যালার্জি, রক্তপাতের ঝুঁকি বা চিকিৎসকের নিষেধ থাকলে তা দেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে জরুরি সেবাদাতার পরামর্শ নিন।
৪. রোগী অচেতন হয়ে স্বাভাবিক শ্বাস না নিলে CPR শুরু করুন
রোগী সাড়া না দিলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে জরুরি সাহায্য ডাকুন। প্রশিক্ষণ থাকলে বুকের মাঝখানে দ্রুত ও নিয়মিত চাপ দিয়ে CPR শুরু করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে ১০০–১২০ বার বুক চাপ দিতে হয়। কাছে AED থাকলে যন্ত্রটির নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
কাশি দিয়ে কি হার্ট অ্যাটাক সামলানো যায়?
হার্ট অ্যাটাক হলে জোরে জোরে কাশি দেওয়া বা বারবার দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে সুস্থ রাখার পরামর্শ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এভাবে সময় নষ্ট করলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে কাশির ওপর নির্ভর না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ঝুঁকি কমাতে সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান পরিহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন: হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন। দ্রুত সঠিক পদক্ষেপই জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

