এশিয়ান গেমসে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, কেমন আছেন বাংলাদেশিরা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও প্রায় পাঁচ বছর আগে অলিম্পিক গেমস সফলভাবে আয়োজন করেছিল জাপান। তবে এবার এশিয়ান গেমস আয়োজন করতে গিয়ে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে দেশটির বিরুদ্ধে। বিশেষ করে অ্যাথলেটদের আবাসন নিয়ে ভারতসহ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা কেমন আছেন—ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আজ সকালে গিফু হকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানাকে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডেলিগেশনের আবাসন নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আগেই জাপানে এসে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।

নারী হকি দলের ম্যানেজার বদরুল ইসলাম দিপুও আবাসন নিয়ে বড় কোনো সমস্যার কথা বলেননি। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘আছি ভালোই, ফকিরেরপুল হোটেলের মতোই।’

বাংলাদেশের জিমন্যাস্ট দল রয়েছে একটি ক্রুজে। হোটেলের পরিবর্তে এমন জায়গায় থাকার অভিজ্ঞতা এবারই নতুন বলে জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান জামিল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাধারণত হোটেলেই থাকতে হয়। এবারের আয়োজন ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।

অন্যদিকে, এশিয়ান গেমসে ভারতের কন্টিনজেন্টের আবাসন নিয়ে অভিযোগের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেস অ্যাটাচি দিগজিৎ সিং। তাঁর দাবি, বেশিরভাগ কক্ষই ছোট এবং অ্যাথলেটদের জন্য তা যথেষ্ট নয়। টেবিল টেনিস ও রোয়িংসহ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়েরা এ সমস্যায় পড়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের কন্টিনজেন্টের সদস্যদের মেঝেতে থাকার কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব ছবি ভারতের দলের নয় বলে দাবি করেছেন দিগজিৎ সিং।

বাংলাদেশের অ্যাথলেট ও কোচদের অনেকেই এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তুলনামূলক সীমিত ও গাদাগাদি পরিবেশে থেকেছেন। ফলে এবারের আবাসন নিয়ে তাঁদের কাছ থেকে বড় ধরনের অভিযোগ খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা না থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের মধ্যে।

সাধারণত কোনো দেশের কন্টিনজেন্টের প্রধান—শেফ দ্য মিশন—প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য সার্বক্ষণিক গাড়ির সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে জাপানে বাংলাদেশ সেই সুবিধা পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জোবায়েদুর রহমান রানা।

তিনি বলেন, গাড়ির প্রয়োজন হলে আগে রিকুইজিশন দিতে হয়। এরপর গাড়ি পাওয়া যাবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। এর সঙ্গে ভাষাগত সমস্যাও রয়েছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় বিষয়টি স্থানীয়দের বোঝাতে সমস্যায় পড়তে হয়।

মহাসচিবের এমন বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই এর বাস্তব উদাহরণ পেয়েছেন বাংলাদেশি সাংবাদিকেরা।

গিফু হকি স্টেডিয়াম থেকে জাপান সময় দুপুর একটায় মিডিয়া বাস ছাড়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশি সাংবাদিকেরা সেখানে উপস্থিত হলেও বাসের দেখা মেলেনি। পরে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা যোগাযোগের পর বাসের ব্যবস্থা করা হয়।

হকি স্টেডিয়ামটি নাগোয়া থেকে বেশ দূরে। এমনকি গিফুর ভেতরে থেকেও নারী হকি দলের কর্মকর্তাদের নিজেদের দলের ম্যাচ দেখতে যেতে প্রায় ২০ হাজার ইয়েন খরচ করতে হয়েছে।

অর্থাৎ, আবাসন নিয়ে বড় কোনো অভিযোগ না থাকলেও যাতায়াতব্যবস্থার দুর্বলতা বাংলাদেশের কন্টিনজেন্টের জন্য আলাদা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment