রাশিয়ার নির্বাচনে রেকর্ড জয় পুতিনের দল, পেল ৩৫৫ আসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি:সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৪৫০ আসনের মধ্যে ৩৫৫টিতে জয় পেয়েছে দলটি। দেশটির নির্বাচন কমিশন সোমবার এ ফল প্রকাশ করে।

টানা তিন দিন ভোটগ্রহণের পর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ইউনাইটেড রাশিয়া আগের নির্বাচনের নিজেদের সর্বোচ্চ ৩৪৩ আসনের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে পার্লামেন্টে দলটির নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হলো।
রাশিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এলা পামফিলোভা জানিয়েছেন, ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ শতাংশের বেশি, যা গত এক দশকের পার্লামেন্ট নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই ছিল রাশিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ক্রেমলিন এই ফলকে পুতিনের প্রতি রুশ জনগণের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, নির্বাচনের ফলাফল রুশ সমাজে রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি ব্যাপক ঐক্যের প্রমাণ।

তবে নির্বাচন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিরোধীদের বড় একটি অংশ এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত উদারপন্থী দল ইয়াবলোকোকে দলীয় ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বেশ কয়েকজন যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিককে নির্বাচনের আগে আটক করা হয়, আবার কেউ কেউ দেশ ছেড়ে চলে যান।

পুতিনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকে বর্তমানে নির্বাসনে বা কারাগারে রয়েছেন। বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনি ২০২৪ সালে আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারাগারে মারা যান।
নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি। দলটি পেয়েছে ৪০টি আসন। এরপর জাতীয়তাবাদী দল এলডিপিআর পেয়েছে ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি পেয়েছে ২০টি আসন।

নির্বাচনের সময় ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা রুশ-দখলকৃত এলাকাতেও ভোটগ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্যও ভোট হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুসলিম অধ্যুষিত চেচনিয়ায় রমজান কাদিরভ ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনের শেষ দিনে মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় দুজন নিহত হন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।

নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক হাজারের বেশি সাইবার হামলার অভিযোগ করেন তিনি এবং এসব হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেন।

এই নির্বাচনের ফল রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পুতিনের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। পার্লামেন্টে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ইউনাইটেড রাশিয়ার আইন প্রণয়ন ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতা থাকবে।

এরই মধ্যে রাশিয়ায় নতুন করে সামরিক সেনা সমাবেশ হতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুতিন অবশ্য নতুন করে সেনা সমাবেশের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে কিয়েভের দাবি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্কো নতুন করে সেনা নিয়োগের উদ্যোগ নিতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক যখন তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ, তখনই অনুষ্ঠিত হলো এই পার্লামেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনের ফলাফল দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পুতিন ও তাঁর দলের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব আরও স্পষ্ট করেছে।

Share This Article
Leave a Comment