নিউজ ডেস্ক: রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি হুমকি ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সংঘর্ষের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে নগরের সাহেব বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সোনাদিঘীর মোড় এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইমরান নাজির বলেন, ছাত্রদলের সঙ্গে তাঁরা ধৈর্যের সীমার একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করা হবে।
ছাত্রশিবিরের কোনো নেতা-কর্মী আহত হলে ছাত্রদলের কোনো নেতার ‘পিঠের চামড়া রাখা হবে না’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন ইমরান নাজির। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির কোনো ভেসে আসা সংগঠন নয়; রাজপথে জীবন দেওয়ার ইতিহাস তাদের রয়েছে। সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মীর ওপর হামলা হলে এর ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে।
ইমরান নাজির ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এ কে এম সারওয়ার জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আবদুর রহিম, রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও খায়রুল ইসলাম।
সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে
এর আগে মঙ্গলবার সকালে পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের পাঁচজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের তিনজন এবং ছাত্রদলের দুজন। আহত ব্যক্তিদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজে ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছিল। সকালে সেখানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পাল্টা হুঁশিয়ারি ছাত্রদলের
ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি ইমরান নাজিরের বক্তব্যের পর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রদলের রাজশাহী মহানগরের সদস্যসচিব এমদাদুল হক (লিমন)।
শিবিরের বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ হওয়ার পর রাতে শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এমদাদুল হক। তিনি বলেন, ছাত্রদলকে ‘কুকুরের মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী থেকে বের করে দেওয়ার বক্তব্য ছাত্রশিবির সভাপতির মুখে মানায় না।
ইমদাদুল হক দাবি করেন, ইমরান নাজিরের বাড়ি কুমিল্লায় এবং তিনি পিআর পদ্ধতিতে নেতা হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, রাজশাহীর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যখন লাগবেন, তখন টের পাবেন।’
ছাত্রদল রাজপথে নামলে ছাত্রশিবির রাজশাহীতে পা রাখার জায়গা পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পদ্মা সরকারি কলেজের ঘটনা প্রসঙ্গে এমদাদুল হক অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বহিরাগতরা যোগ দিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ছাত্রদল এর ‘অল্প পরিমাণ প্রতিরোধ’ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইমরান নাজিরের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল যখন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, তখন তিনি কুমিল্লায় যাওয়ার বাসও পাবেন না।
পুলিশের বক্তব্য
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান বলেন, সকালে পদ্মা সরকারি কলেজে একটি ঘটনা ঘটেছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।

