নিউজ ডেস্ক: বিয়ে করেননি—তাতে কি জীবন থেমে থাকে? মোটেও নয়। নিজের মতো করে সময় কাটানো, নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ারও আলাদা এক সৌন্দর্য আছে। তাই অবিবাহিত দিবস হতে পারে নিজের জীবন ও পছন্দকে উদ্যাপনের একটি উপলক্ষ।
শান্তির ঘুম, নিজের মতো সময়
ঘুমের সময় সঙ্গীর নাক ডাকার শব্দে বিরক্ত হতে হয় না—এটিও একা থাকার ছোট্ট সুবিধা! কিছু গবেষণায়ও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, একা ঘুমালে কারও কারও ঘুমের মান তুলনামূলক ভালো হতে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও অবিবাহিত জীবনে কিছু সুবিধা থাকতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত ও সন্তান থাকা ব্যক্তিদের অনিরাপদ ঋণ থাকার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। আবার পরিবেশের ওপর প্রভাবের দিক থেকেও একা বসবাস বা অবিবাহিত জীবনযাপন কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে টেকসই হতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
বন্ধুদের সঙ্গে জমুক আড্ডা
অবিবাহিত দিবসে প্রেমিক-প্রেমিকার জুটির বদলে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো যেতে পারে। কাছের মানুষদের নিয়ে রাতের খাবার, দীর্ঘ আড্ডা কিংবা এক কাপ কফির আয়োজন—উদ্যাপনের জন্য এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে?
নিজের কোথায় যাওয়া, কখন ফিরবেন কিংবা কার সঙ্গে দেখা করবেন—এসব নিয়ে কারও অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হয় না। তবে বন্ধুদের আড্ডায় গিয়ে যেন আবার বিয়ের পাত্র বা পাত্রী খোঁজার আলোচনা শুরু না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা দরকার!
অবিবাহিত মানুষের সংখ্যাও কম নয়
২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। তাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী এবং ৪৭ শতাংশ পুরুষ।
এই অবিবাহিতদের ৫৬ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তারা প্রয়োজনীয়ভাবে প্রেমের সম্পর্ক বা জীবনসঙ্গী খুঁজছেন না। অর্থাৎ অবিবাহিত মানেই যে সবাই একজন সঙ্গীর সন্ধানে রয়েছেন, এমন ধারণা ঠিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যে অবিবাহিত নারীদের নিজেদের বাড়ির মালিক হওয়ার হারও অবিবাহিত পুরুষদের চেয়ে বেশি। আবার কিছু বিশেষজ্ঞের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সহস্রাব্দ প্রজন্মের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ হয়তো কখনো বিয়েই করবেন না।
নিজের ইচ্ছের ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ুন
অনেকদিন ধরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অবিবাহিত দিবসেই শুরু করা যেতে পারে সেই পরিকল্পনা। কাছের কোনো জাদুঘর, দর্শনীয় স্থান কিংবা প্রকৃতির কাছে একদিন কাটানো থেকে শুরু করে দূরের কোনো দেশে ভ্রমণ—সবই হতে পারে নিজের জন্য সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা।
তবে একা ভ্রমণে অভ্যস্ত না হলে অভিজ্ঞ কোনো ভ্রমণসঙ্গী বা দলীয় ভ্রমণ বেছে নেওয়া যেতে পারে। নিজের পছন্দের জায়গায় নিজের সময়মতো ঘুরে বেড়ানোর আনন্দও আলাদা।
একা থাকা আর একা হয়ে যাওয়া এক নয়
অবিবাহিত থাকা মানেই নিঃসঙ্গ থাকা নয়। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা সমাজের অন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই দিনে চাইলে কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা, প্রবীণ নিবাসে সময় কাটানো, বই পড়ে শোনানো কিংবা গাছ লাগানোর মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যায়।
কারণ জীবনসঙ্গী না থাকলেও ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ সব সময়ই থাকে।
নিজের মতো ভালো থাকাটাই আসল
বিয়ে করা বা না করা—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা, নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজের পছন্দকে সম্মান করা।
তাই অবিবাহিত দিবসের বার্তাটা হতে পারে খুব সহজ—একা আছি, তাই বলে একা নই; নিজের মতো আছি, বেশ আছি।
অবিবাহিত দিবস: একা আছি, বেশ আছি!
Leave a Comment
Leave a Comment

