জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের কারফিউ, মদ্যপানেও নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের ওকিনাওয়া প্রদেশে এক জাপানি নারী হত্যার ঘটনায় সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের মদ্যপানেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

জাপানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গত ৩ অক্টোবর নাহা শহরের একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগি নামের এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ২০ বছর বয়সী মার্কিন ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে ওই নারীর ওয়ালেট ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ব্যালার্ড অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পুলিশের দাবি, ব্যালার্ড ওই নারীর গলায় চাপ দিয়েছিলেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে ইয়াগি চেক-আউট না করায় তাঁর কক্ষে গিয়ে তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ইয়াগির সঙ্গে এক ব্যক্তিকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্যকে নিয়ে অভিযান চালানো হয়।

ঘটনাটি জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা ওকিনাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে আগে থেকেই ক্ষোভ রয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন এক বিবৃতিতে বলেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সেনাসদস্যদের প্রতিটি আচরণ পারস্পরিক আস্থা তৈরি কিংবা নষ্ট করতে পারে। সেই আস্থা নষ্ট হলে তা জোটের সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি জানান, আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ সময় ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হবে।

‘বর্বর ও জঘন্য’ হত্যাকাণ্ড

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত বর্বর ও জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘটনার পর নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভ হয়েছে। ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

 মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে পুরোনো ক্ষোভ

তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি অবস্থিত ওকিনাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। জাপানে থাকা প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার অধিকাংশই এই অঞ্চলে মোতায়েন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ওকিনাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শব্দদূষণ, বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এর অন্যতম কারণ।

১৯৯৫ সালে ওকিনাওয়ার ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী তিন মার্কিন সেনাসদস্যের হাতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সেখানে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর দাবি আরও জোরালো হয়।

সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে সেই পুরোনো ক্ষোভ সামনে এসেছে।

Share This Article
Leave a Comment