জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারেজের উদ্বোধনের ঘোষণা পানিসম্পদমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক:উপশিরোনাম: দুই ধাপে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা; ১৯ জেলায় কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা।

আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারেজের উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তাঁর দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে কারিগরি বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজের সুবিধা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ পাবেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত কোটি মানুষ এ প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারেন। প্রকল্পটি একটি বড় অবকাঠামোগত উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন, বন্যা ও পানির প্রাপ্যতা নিয়ে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে প্রকল্পটির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে ২০১৬ সালের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজের কাজ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজ করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর বাস্তবায়নে সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

১৯ জেলার উন্নয়নের সম্ভাবনা

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের পরিচালক হাসান মাহমুদ বলেন, পাবনার সুজানগর থেকে রাজবাড়ী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যারেজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাবনাসহ ১৯টি জেলার কৃষি, সেচ ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

তিনি জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে বছরে প্রায় আট মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও এটি সহায়ক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্ষাকালে ব্যারেজের ৭৮টি গেট খোলা রাখার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, সেচসুবিধা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

আলোচনা সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদী, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আবু আশরাফ এবং সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share This Article
Leave a Comment