আন্তর্জাতিক ডেস্ক:পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার আদিল শাহ ওরফে দরবেশ নিহত হয়েছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের কিলা সাইফুল্লাহ জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আদিল শাহকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য ২৫ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
টিটিপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন আদিল
নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রের দাবি, আদিল শাহ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে টিটিপিতে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছান। ২০২৪ সালে তাঁকে টিটিপির আর্থিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বেলুচিস্তানের ঝোব, শেরানি ও শাবান এলাকায় বাইরে থেকে আসা জঙ্গিদের থাকার ব্যবস্থা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন আদিল। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
‘অপারেশন রাদ্দ-উল-ফিতনা ৩’-এর অংশ
নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলুচিস্তানে পরিচালিত এই অভিযান পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ‘অপারেশন রাদ্দ-উল-ফিতনা ৩’-এর অংশ।
পাকিস্তানে টিটিপিকে ‘ফিৎনা আল খারিজ’ নামেও উল্লেখ করা হয়। তবে সংগঠনটি সম্পর্কে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত এই পরিভাষাটি সরকারি অবস্থানের অংশ।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনা
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে, জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার বারবার আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাতে না পারে।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে কাবুল। তবে আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের বক্তব্য ও এ বিষয়ে তাদের অবস্থান এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বেশ কয়েক দফা আলোচনা হলেও দুই দেশের মধ্যে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। আফগান ভূখণ্ডে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি ও তাদের কার্যক্রম নিয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান সমস্যা।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানে গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক জঙ্গি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়।

