ডিমলায় কালভার্ট নির্মাণ শেষ, অ্যাপ্রোচ সড়ক নেই; দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
4 Min Read

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হলেও তৈরি হয়নি অ্যাপ্রোচ সড়ক। ফলে কালভার্টটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনির হাটমুখী সড়কে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কালভার্টের দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহনে তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি।

স্থানীয় ছাইদ-উর রহমান বিপ্লব জানান, কালভার্ট নির্মাণের পর তাঁরা যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার আশা করেছিলেন। কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

পশ্চিম ছাতনাইয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সফিকুল ইসলাম বলেন, “কালভার্ট নির্মাণ হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় এটি দিয়ে চলাচল করতে পারছি না। বৃষ্টির দিনে বেশি কষ্ট হয়। বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে যায় আর কালভার্টের দুই পাশে গর্ত থাকায় হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হয়।কাল কালভার্টের দুই পার্শ্বে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হলে যানবাহন নিয়েও চলাচল করা সম্ভব হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, “কালভার্টটি মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় সেটি কোনো কাজে আসছে না। দ্রুত সড়ক নির্মাণ করে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করা দরকার।”

স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী বলেন, “এত টাকা খরচ করে কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও আমরা সেটি ব্যবহার করতে পারছি না। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের কারণে কাজটি আটকে আছে। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, “কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।”

ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, “কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে, তবে প্রকল্প এখনো অনুমোদন হয়নি। এ কারণে ঠিকাদার এখনো বিল করতে পারেননি। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার যে মাটি ফেলেছেন, স্থানীয় লোকজন তা কাটতে দিচ্ছেন না। এ সড়কের মাটি অ্যাপ্রোচ সড়কে ফেলা হবে। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আশা করি, বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের মাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় সময়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে টুনিরহাট আরঅ্যান্ডএইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে ২৯৮ দশমিক ৬ মিটার বক্স কালভার্ট নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হয়। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৭১৩ টাকা এবং ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ টাকা। উপজেলা মোড়, আদর্শ পাড়া জলঢাকা নীলফামারির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন অ্যান্ড সন্সের বক্স কালভার্টটির কাজ সমাপ্ত করেন।

Share This Article
Leave a Comment