বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
5 Min Read
ছবি:সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, বাণিজ্যবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের বিমান পরিবহন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বোয়িংয়ের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
বোয়িংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্ডারে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। নতুন চুক্তি যুক্ত হলে বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট অর্ডার দাঁড়াচ্ছে ২৫টি উড়োজাহাজে।

মাহদী আমিন আরও জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পর বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।

জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বৈঠক
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের দ্বিতীয় দিনের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় তাঁদের জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ ছাড়া মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ক্রোয়েশিয়া ও ইরানের সঙ্গে বৈঠক
মাহদী আমিন জানান, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর সংঘাতের প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার বিষয়েও বাংলাদেশ আগ্রহী।

জলবায়ু অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নদী ও খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়—দুই পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, কূটনীতিতে সব দরজা ও বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাগত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। এক বিবৃতিতে তিনি বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে অভিনন্দন জানান।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি অগ্রগতি।
নতুন ১১টি উড়োজাহাজের চুক্তির মডেল, মূল্য, অর্থায়ন এবং সরবরাহের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

Share This Article
Leave a Comment