নিজেস্ব প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নে যুবদল নেতা মো. খোকনের ছবি ও নাম ব্যবহার করে ‘চেয়ারম্যান হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি’ দেওয়ার ঘোষণা-সংবলিত পোস্টার লাগানো হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এসব পোস্টার দেখা যায়। পরে পোস্টারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা মন্তব্য করেন নেটিজেনরা।
পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘আসন্ন ১নং সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি গাঁজার ডিলার (খোকন) চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আমি কথা দিচ্ছি, চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রিতে দিব।’
এ ছাড়া পোস্টারে আরও কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—‘বেকারদের জন্য গাঁজা ভাতা’, ‘মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ কার্ড’, ‘স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই’, ‘থানা-পুলিশ আমার ভাই’ এবং ‘উন্নয়ন হবে, আগে চাঁদা হবে’।
পোস্টারে ছবি ও নাম ব্যবহার করা হয়েছে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. খোকনের। তবে তিনি দাবি করেছেন, পোস্টারগুলো তাঁর নয়; প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে এসব করেছেন।
মো. খোকন বলেন, পাঁচ দিন আগে তাঁর ছেলেকে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমের ছেলে চড় মারেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টি জানার পর তাঁকে হেয় করতে প্রতিপক্ষের লোকজন এসব পোস্টার লাগিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
তিনি বলেন, ‘আমি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।’
অভিযোগের বিষয়ে সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেম বলেন, ‘এটি তাঁর বিষয়। পোস্টার লাগানোর ঘটনায় আমাদের কেউ জড়িত নয়।’
পোস্টার লাগানোর ঘটনা সম্পর্কে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টারটির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন ব্যবহারকারীরা। বেলাল হোসেন অপেল নামের একজন লেখেন, ‘আর কী বলব।’ মো. রাজু নামের আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘মাদক কত এবেলএবেল হলে এমন পোস্টার করা হয়।’ সজিব মাহমুদ নামের একজন লেখেন, ‘এটি প্রতিহিংসা থেকে হতে পারে।’
পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা এসব পোস্টার লাগিয়েছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

